পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির’ তদন্ত পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসা বিশ্ব ব্যাংক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রকল্পের অর্থদাতা অপর তিন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রোববার সকাল ১০টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা এই বৈঠক হয়।
পর্যবেক্ষক দলের তিন সদস্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো, হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং এবং যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান ছাড়াও বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইডিবির স্থানীয় প্রতিনিধিরা এ বৈঠকে অংশ নেন।
দ্বিতীয় দফা ঢাকা সফরের প্রথম দিনই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে তিন পর্যবেক্ষকের। দুপুরে ওই বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ওকাম্পো ঢাকা পৌঁছান শনিবার বিকেল ৪টায়, ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের একটি বিমানে। তিনি রাত কাটান ওয়েস্টিন হোটেলে।
পর্যবেক্ষক দলের অন্য দুই সদস্যও রাতেই ঢাকা পৌঁছান বলে জানান বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তা (কমিউনিকেশন্স) মেহেরিন এ আহমেদ।
বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি পর্যবেক্ষক দলের কোনো সদস্য।
ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন এই প্যানেলের প্রতিবেদনের ওপরই ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। এছাড়া এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা।
পদ্মা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুনে ১২০ কোটি ডলারের ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক। তবে সরকারের তৎপরতায় ‘শর্তসাপেক্ষে’ এ প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয় বহুজাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি।
এরপরই তদন্ত পর্যবেক্ষণে প্যানেল গঠন করে তারা। ওকাম্পোর নেতৃত্বে পর্যবেক্ষকরা গত অক্টোবরে প্রথম দফা ঢাকা সফর করেন।
প্রথম দিকে তদন্তে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার দাবি করলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সম্ú্রতি জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ পাওয়ার জন্য ঘুষ লেনদেনের ‘ষড়যন্ত্রের’ তথ্য পেয়েছেন তারা।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন