দলীয় সরকার বহাল থাকা অবস্থায় আগামী দশম সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রভাবমুক্ত’ রাখতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালায় বেশ কিছু সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এতে বলা হচ্ছে, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রধান হুইপ, হুইপ বা সম মর্যাদার ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে ‘প্রোটোকল’ পাবেন না। তবে নির্বাচনী এলাকায় বিধি অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের ‘প্রটেকশন’ পাবেন তারা।
নিজেদের নির্বাচনী এলাকার বাইরেও প্রচারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না তারা।
১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে সাংসদ বা সরকারের মন্ত্রীদের পদে থেকে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ ছিল না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৯০ দিনে নির্বাচনের বিধান ছিল সে সময়।
কিন্তু সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করায় সরকারের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ফলে ২০১৩ সালের শেষ দিকে বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে।
ওই সময় সংসদ বহাল থাকলেও তা আসলে ‘অকার্যকর’ থাকবে বলে দাবি করে আসছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।
অবশ্য প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলে আসছে, দলীয় সরকারের অধীনে হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না।
ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও মনে করেন, একটি সংসদ থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করবে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে অন্য কয়েকটি দলও ‘বিষয়টি’ সুরাহা করার অনুরোধ জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসি সচিবালয়ের উপ সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি কমিটি আচরণবিধি সংশোধনের একটি প্রস্তাব তৈরি করে কমিশনে জমা দিয়েছেন।
মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, “আমরা সার্বিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে কিছু প্রস্তাব ইসির কাছে উপস্থাপন করেছি। কমিশন তা পর্যালোচনা করে যুক্তিযুক্ত মনে করলে সংশোধনী আনবে।”
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ এ বিষয়ে বলেন, “নির্বাচনের অন্তত দুই মাস আগে বিধিমালায় সংশোধন আনা সম্ভব। ওই সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”
অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ইতোমধ্যে বলেছেন, কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা রাজনৈতিক বিষয়, এর সমাধান হবে সংসদে। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান হবে বলেও তিনি আশা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসি সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, আচরণ বিধিমালায় ‘সরকারি সুবিধাভোগী’ কিছু ব্যক্তির নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়া এবং সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে।
“আগামী সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সম মর্যাদা সম্পন্ন ওইসব ব্যক্তিরা প্রটোকল না পেলেও প্রটেকশন পাবেন। তাদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে যেতে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হতে পারে”, বলেন এক কর্মকর্তা।
বিদ্যমান আচরণ বিধিতে ‘সংসদের শূন্য আসনের উপ নির্বাচনে’ এ বিধান প্রযোজ্য রয়েছে।
এছাড়া বিলবোর্ড ব্যবহারে স্থানীয় নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনে তা শিথিল করা হতে পারে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের বিষয়েও সংশোধনী আসতে পারে বিধিমালায়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন