আগামী ১৫ ডিসেম্বর নতুন খসড়া সংবিধানের ওপর গণভোটের ডাক দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসি । এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সঙ্কটের অবসান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
শনিবার পার্লামেন্টের অনুমোদিত খসড়া সংবিধানের একটি প্রতিলিপি প্রেসিডেন্ট মুরসিকে দেওয়ার পর তিনি গণভোটের ডাক দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
খসড়া সংবিধানের বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে তিনি সকল মিশরবাসীর প্রতি গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “নিজেদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মিশরবাসী কিভাবে গড়ে তোলে তা দেখার জন্য বিশ্ববাসী অপেক্ষা করে আছে।”
বিবিসির কায়রো প্রতিনিধি জন লিনে জানিয়েছেন, গণভোটের মাধ্যমে শুধু মিশরের সংবিধানের ভবিষ্যৎই নির্ধারিত হবে না এর মাধ্যমে দেশটির ভবিষ্যৎ গন্তব্যও নির্ধারিত হবে।
এদিকে একইদিন ইসলামপন্থী মুরসির সমর্থকরা কায়রোতে সরকারের ইসলামী নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশাল সমাবেশ করেছে। সমাবেশে অন্তত ২ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রোববার মিশরের বিচার বিভাগীয় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের সাংবিধানিক পার্লামেন্টের বৈধতা বিষয়ে একটি রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালত সাংবিধানিক পার্লামেন্টের বৈধতা বাতিল করলে গণভোটের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন বিবিসির কায়রো প্রতিনিধি।
শুক্রবার খসড়া সংবিধানটির ওপর পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। এর আগে সংবিধানের প্রস্তাবিত ২৩৪টি ধারা নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা বৃহস্পতিবার সারারাত ধরে চলে।
শুক্রবার সকালে পার্লামেন্টের উদারপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ ও খ্রীস্টান সদস্যরা পার্লামেন্টের অধিবেশন থেকে বের হয়ে যায়। নতুন সংবিধানে ইসালামপন্থীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে ভোট প্রত্যাখান করে তারা।
পরে কোনো সংশোধন ছাড়াই ইসলামপন্থীদের আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে খসড়া সংবিধানের সবগুলো ধারা ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুমোদিত হয়।
মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্যমতে, খসড়া সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং শরিয়া আইনকে “আইনের প্রধান উৎস হিসেবে” বিবেচনা করা হয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক প্রণীত সংবিধানেও ওই বিষয়গুলো ছিল। নতুন সংবিধানেও তা বহাল রাখা হয়েছে।
শনিবার সরকার বিরোধী অন্যতম নেতা মোহামেদ এলবারাদি ট্যুইটারে বলেন, “যে সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে গণভোটের ডাক দিয়েছেন মুরসি তাতে মৌলিক স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক মূল্যবোধগুলো অবজ্ঞা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।”
২২ নভেম্বর প্রভূত ক্ষমতা অধিগ্রহণ করে একটি ডিক্রি জারি করেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আদালতও প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না বলে ডিক্রিতে বিধান রাখা হয়।
ডিক্রি জারির পর থেকে অব্যাহত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় এ পর্যন্ত দুই জন নিহত ও কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছে। ডিক্রি জারিকে কেন্দ্র করে মিশরের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধীদের রাজনৈতিক বিভক্তি আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।
গণভোটে জনতার রায় নতুন সংবিধানের পক্ষে গেলে মিশরের আগের সংবিধানের সব ঘোষণা পরিবর্তিত হয়ে যাবে। মুরসির ঘোষিত ডিক্রিও নতুন সংবিধানের আওতায় নতুন করে সাজাতে হবে।
নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে। এর মাধমে মিশরীয় সরকার ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন সাধিত হবে। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ দুই বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
নতুন সংবিধান সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক প্রশাসনের ক্ষমতার আওতাও বৃদ্ধি করবে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন