জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘অতীতের সম্পর্ক’ স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় ফারুক বলেন, “গতকাল প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের জনসভায় বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহবান রেখেছেন, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়–ন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, এই আহবান জানানোর আগে আপনি একটিবার ‘৯৬ সালের কথা স্মরণ করুন।”
“ওই সময়ে আপনারা জামায়াতকে নিয়ে একসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। তখন যদি জামায়াতে ইসলামী আপনার রাজনৈতিক বন্ধু হতে পারে। এখন কেনো আপনি বলছেন, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করুন”, যোগ করেন তিনি।
শনিবার জনসভায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। জামায়াত-শিবির ছাড়–ন। তাহলে যদি বাংলার মানুষের মনে একটু জায়গা হতে পারে।”
জামায়াতে ইসলামী বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল, যে দলটির ছয়জন নেতা একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন।
জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে ‘১৮ দলীয় জোটের ঘোষিত কর্মসূচি’ শীর্ষক এই কর্মী সভা উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “একাত্তরে যারা মানবতাবিরোধী কাজ করেছে, অবশ্যই তার বিচার আমরা চাই। তবে সেই বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান যাদের ছেড়ে দিয়েছেন, তাদেরও বিচার হতে হবে।”
“কিন্তু আজ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের নামে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।”
জাতীয় সংসদকে একদলীয় অভিহিত করে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ বলেন, “সংসদকে ক্ষমতাসীনরা একদলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। সেখানে দেশের মানুষের সমস্যা, সরকারের দুর্নীতি-অপশাসনের কথা বলতে দেয়া হয় না।”
১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিরোধী দল এই কর্মসূচি দিয়েছে। এটা মিথ্যাচার। বিজয়ের এই মাস আপনার (শেখ হাসিনা) একার নয়, আমাদেরও। কারণ শহীদ জিয়াউর রহমানই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছেন।”
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর অবরোধসহ জোটের কর্মসূচি সফল করার জন্য জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সংগঠনের সভাপতি এম এম মেহবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রাহমাতুল্লাহ, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া আনোয়ার হোসেন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন