সাভারের জামগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এ সময় তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে শতাধিক লোক আহত হন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, শ্রমিকরা বেলা পৌনে ১১টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে ৩০-৩৫টি যানবাহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের সরিয়ে দিলে সাড়ে ১২টার দিকে যান চলাচল আবার শুরু হয়।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের উপ-পরিচালক মোক্তার হোসেন জানান, বহিরাগত কিছু শ্রমিক শনিবার পুকুরপাড় এলাকার রপ্তানিমুখী ব্যাগ তৈরির কারখানা পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। ফলে রোববার সকালে শ্রমিকরা কাজে এসে ছুটি দিতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
পিকার্ড কর্তৃপক্ষ রোববারের জন্য কারখানা ছুটি দিয়ে দিলে শ্রমিকরা একসঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হয়। একসঙ্গে এতো শ্রমিককে রাস্তায় দেখে অস্থিরতার আশঙ্কায় পুকুরপাড়, জিরাবো ও কাঠগড়ায় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে মোক্তার হোসেন জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের একটি অংশ সকালে শিমরাইল-জিরাবো সড়ক অবরোধ করতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জামগড়ার হিরণ অ্যাপারেলসের কর্মীরা সকালে কারাখানায় এসে ১০১ জনের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ছুটি হয়ে যাওয়া অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও এ সময় মহাসড়কে বিক্ষোভে যোগ দিলে পাশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা ৩০ থেকে ৩৫টি যানবাহন ভাংচুর করে বলে পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এতে বাধ্য হয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছাত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষে আহত হয় শতাধিক লোক।
মহাসড়কে সংঘর্ষ শুরু হলে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনসে আগুন লেগে অন্তত ১১০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই এ এলাকার শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। গত সোমবার থেকে প্রায় প্রতিটি কার্যদিবসেই বিক্ষোভ দেখায় শ্রমিকরা। ফলে গত সপ্তাহে চারদিন আশুলিয়ার সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে আশুলিয়াতেই রয়েছে সাড়ে তিনশর বেশি।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন