হাতে দুই দিন রেখে ৬৩২ রানের পাহাড় ডিঙানোর স্বপ্ন দেখতেও অনেক সাহসের দরকার হয়। পার্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতার গোঁদের ওপর বিষ ফোঁড়াই ভাবা যেতে পারে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রাকে। পাহাড় ডিঙানোর এই লড়াইয়ে হোঁচট খেতে খেতে বিশাল পরাজয়ই বরণ করে নিল অসিরা। ৩০৯ রানের বিশাল এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের জন্য ৬৩২ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেছে ৩২২ রানে।
সিরিজ নির্ধারণী এই পার্থ টেস্টে দুই দলের প্রথম দুই ইনিংস ছিল লো-স্কোরিং। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল মাত্র ২২৫ রানে। অস্ট্রেলিয়ার জবাব ছিল তথৈবচ। স্কোরবোর্ডে তারা তোলে মাত্র ১৬৩ রান। ৬২ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। হাশিম আমলার দুর্দান্ত ১৯৬ ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের ১৬৯ রানের পাশাপাশি অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের ৮৪ দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে যায় রান-পাহাড়ের চূড়ায়। ৫৬৯ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস। সিরিজ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৬৩২ রানের। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে আজ টেস্টের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ৩২২ রানে। এড কাওয়ানের ৫৩ রানের পাশাপাশি টেইল এন্ডে মাইকেল স্টার্কের ৬৮ ও মাইকেল ক্লার্কের ৪৪ রান কিছুটা হলেও রক্ষা করে অস্ট্রেলিয়ার মান। জীবনের শেষ টেস্ট ম্যাচে রিকি পন্টিং যারপরনাই ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে ৪ রানে আউট হওয়া পন্টিং দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮। শেষ টেস্টে মাঠে নামা ও বিদায়ের সময় পন্টিংকে দেওয়া হয় বিপুল সংবর্ধনা। পার্থের ওয়াকা মাঠের দর্শক থেকে শুরু করে সবাই, এমনকি প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনায় সিক্ত হন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার; অস্ট্রেলিয়াকে দুবার বিশ্বকাপ জেতানো সাবেক সফল অধিনায়ক।
দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সব বোলারই কমবেশি সফল। তাঁদের মধ্যে ডেল স্টেইন ৪০ রানে ৪টি এবং পিটারসেন ৪৪ রানে ৩ উইকেট দখল করে ফাটল ধরান অস্ট্রেলীয় প্রতিরোধে। স্টেইন ও পিটারসেনের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্ডার ২টি এবং মরকেল ১টি উইকেট দখল করেন। সূত্র: রয়টার্স।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন