আনামুল হকের প্রথম শতকের সৌজন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সহজেই ১৬০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডে।
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৯২ রান করে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০০৯ সালে ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে ৭ উইকেটে ২৭৬ রান করে তারা। জবাবে ৩১ ওভার ১ বলে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই ভেন্যুতে এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ জয়। এইম মাঠে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ানডে হারেনি তারা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সোহাগ গাজীর আঁটোসাটো বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেন নি লেন্ডল সিমন্স ও ক্রিস গেইল। দলীয় ১১ রানে সোহাগের বলে তামিম ইকবালের হাতে ধরা পড়ে সিমন্সের বিদায়ে শুরুতেই চাপে পড়ে অতিথিরা।
বাংলাদেশ সফরে নিজের ছায়া হয়ে থাকা গেইলকে (১৫) হতাশ করেছেন মাশরাফি। বিপজ্জনক এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।
৩২ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে মারলন স্যামুয়েলসের (১৬) সঙ্গে ৩১ রানের ছোট্ট একটা জুটি গড়েন ড্যারেন ব্রাভো। আগের ম্যাচে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা স্যামুয়েলকে এবার মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করে স্বাগতিদের তৃতীয় সাফল্য এনে দেন সোহাগ।
পরের ওভারে ডোয়াইন স্মিথকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করা আব্দুর রাজ্জাক অতিথিদের আরো বড় ধাক্কা দেন ১৯তম ওভারে। সেই ওভারে তিন বলের মধ্যে ব্রাভো (২৮) ও ডেভন মাসকে (০) সাজঘরের প দেখান তিনি।
৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যাওয়া অতিথিদের স্বপ্ন তখনো টিকে ছিল উইকেটে কাইরন পোলার্ড (২৫) ছিলেন বলে। কিন্তু দলীয় ১১১ রানে নাঈম ইসলামের বলে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি বোল্ড হয়ে গেলে অতিথিদের বড় হার নিশ্চিত হয়ে যায়।
এরপর আন্দ্রে রাসেল ৯ ও সুনীল নারায়ণ অপরাজিত ১০ রান করলেও দেড়শ পর্যন্ত যেতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি অতিথিদের ষষ্ঠ ও টানা তৃতীয় হার। এই তিন ম্যাচেই দুশ করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
রাজ্জাক (৩/১৯) ও সোহাগ (৩/২১) ৩টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় জয় এনে দেন। এর আগে স্কটল্যান্ডকে ১৪৬ রানে হারিয়েছিল তারা।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। প্রথম ওয়ানডেতে অর্ধশতক করা তামিম ইকবাল (৫) ও নাঈম (৬) দ্রুত বিদায় নিলে ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ১৭৯ বলে আনামুলের ১৭৪ রানের রেকর্ড জুটি স্বাগতিকদের ২ উইকেটে ১৯৫ রানের শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করায়।
পাওয়ার প্লের প্রথম ওভারের (৩৬) চতুর্থ বলে রামপলের বলে পুল করতে গিয়ে সিমন্সের হাতে ধরা পড়ে মুশফিক (৭৯) বিদায় নিলে একটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মুশফিকের ৮৭ বলের ইনিংসটি ৮টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ।
পাওয়ার প্লেতেই নাসির হোসেনকে (৪) গেইলের ক্যাচে পরিণত করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন রামপল।
পঞ্চম উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে আনামুলের ৬৪ রানের জুটির সৌজন্যে আড়াইশ পেরুয় বাংলাদেশ। অভিষেকের পর প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি মুমিনুলের। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো ব্যাট করতে নেমে ২৯ বলে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।
এই জুটি গড়ার ফাঁকেই প্রথম ওয়ানডে শতকে পৌঁছান ম্যাচসেরা আনামুল (১২০)। তার ১৪৫ বলের ইনিংসটি ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো।
৪৯ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মুমিনুল-আনামুলকে সাজঘরে ফিরিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট নেন রামপল। ৪৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার। এটি তার ৭২ ম্যাচের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং।
দুই ‘সেট’ ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও ৯ বলে মাশরাফি বিন মুর্তজা (১৮*) ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের (৩*) অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটি স্বাগতিকদের তিনশ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
প্রথম ওয়ানডে ৭ উইকেটে জিতে ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৯২/৬ (তামিম ৫, আনামুল ১২০, নাঈম ৬, মুশফিক ৭৯, নাসির ৪, মুমিনুল ৩১, মাহমুদুল্লাহ ৩*, মাশরাফি ১৮*; রামপল ৫/৪৯, রাসেল ১/৫৮)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৩২ (সিমন্স ৯, গেইল ১৫, ব্রাভো ২৮, স্যামুয়েলস ১৬, স্মিথ ০, পোলার্ড ২৫, থমাস ০, স্যামি ১২, রাসেল ৯, সুনীল ১০, রামপল ০*; রাজ্জাক ৩/২১, সোহাগ ৩/১৯, মাশরাফি ১/২৬, মাহমুদুল্লাহ ১/২৭, নাঈম ১/২৮)


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন