স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে যে নেতিবাচক
ধারণা ছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে।
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩-এ বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে যে অল্প কয়েকটি দেশ মানব উন্নয়ন সূচকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ‘ভালো করেছে’ তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনে প্রতিবছর উন্নয়নের নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ২০১৩ সালের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে কর্মসংস্থান নিয়ে। কীভাবে একটি শক্তিশালী বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে হওয়া প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বাড়তি পরিশ্রম করায় এবং চাকরির সুবাদে নারীরা সন্তান লালন-পালনে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারায় দারিদ্র্য কমেছে।
“নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে করতে করতে শ্রমিকদের দক্ষতা বেড়েছে। বেশি বেশি উৎপাদনমুখী চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়ে কম উৎপাদনমুখী কাজগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াতেও দক্ষতা বেড়েছে।”
কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, কম দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিকের কাজের সুযোগ দেয়া শিল্পখাত এবং এগুলোর সমর্থনে নেয়া বিভিন্ন সমাজিক নীতির কারণে এ সফলতা এসেছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
এমন একটি সময় এ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে যখন ওয়াশিংটন ভিত্তিক এ দাতা সংস্থার সঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঋণ দেয়া নিয়ে বাংলাদেশের ঝামেলা চলছে।
২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে বলে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল।
স্বাধীনতার পর সত্তুরের দশকে বাংলাদেশকে ধরা হয়েছিল ‘উন্নয়নের টেস্ট কেস’ হিসেবে। ১৯৭৮ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে।
স্বাধীনতা পাওয়ার পর পরই বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যা, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ, অনুন্নত অবকাঠামো, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে এই নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
“সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত রাখায় বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশ সম্পর্কে ওই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে।”
দ্রুত নগরায়ন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে শিল্পায়ন বাড়তে থাকায় জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯০ সালেও ২০ শতাংশ ছিল।
তৈরি পোশাক খাতের কল্যাণে ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১০ সালে জিডিপিতে রপ্তানি আয়ের অবদান তিনগুণ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৈরি পোশাক খাতের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়েছে। বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৩০ লাখ নারী কাজ করছে।
“এই অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে অগ্রগতি আসায় মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।”
গত দুই দশকে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯২ সালে ৭০ শতাংশ মানুষ সোয়া এক ডলারের কম ব্যয়ে দিন পার করলেও ২০১০ সালে এ হার ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
কৃষি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক গ্রামীণ মানুষের জন্য নির্মাণ খাত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে এবং বিদেশ থেকে কম দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিকের পাঠানো রেমিটেন্স বছরে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
চাকরি ও শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় সমাজে তাদের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দরিদ্র, তরুণ ও নারীবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্ব ব্যাংক মনে করে।
“এ সবের কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরো কার্যকর বিনিয়োগে উৎসাহ আসছে।”
বাংলাদেশে যে সব সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলোও ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তাতে বলা হয়েছে, “দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় অনেক বেশি। বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই নিয়মিত। অনেক রাস্তার অবস্থাই ভালো নয়, যেগুলোর অবস্থা ভালো সেগুলোতে যানজট দেখা দেয়।”
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩ -এর ভূমিকায় বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ খাত থেকে।”
“বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সহায়ক অবস্থা সৃষ্টিতে সরকারগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে”, যোগ করেন তিনি।
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩-এ বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে যে অল্প কয়েকটি দেশ মানব উন্নয়ন সূচকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ‘ভালো করেছে’ তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনে প্রতিবছর উন্নয়নের নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ২০১৩ সালের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে কর্মসংস্থান নিয়ে। কীভাবে একটি শক্তিশালী বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে হওয়া প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বাড়তি পরিশ্রম করায় এবং চাকরির সুবাদে নারীরা সন্তান লালন-পালনে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারায় দারিদ্র্য কমেছে।
“নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে করতে করতে শ্রমিকদের দক্ষতা বেড়েছে। বেশি বেশি উৎপাদনমুখী চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়ে কম উৎপাদনমুখী কাজগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াতেও দক্ষতা বেড়েছে।”
কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, কম দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিকের কাজের সুযোগ দেয়া শিল্পখাত এবং এগুলোর সমর্থনে নেয়া বিভিন্ন সমাজিক নীতির কারণে এ সফলতা এসেছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
এমন একটি সময় এ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে যখন ওয়াশিংটন ভিত্তিক এ দাতা সংস্থার সঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঋণ দেয়া নিয়ে বাংলাদেশের ঝামেলা চলছে।
২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে বলে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল।
স্বাধীনতার পর সত্তুরের দশকে বাংলাদেশকে ধরা হয়েছিল ‘উন্নয়নের টেস্ট কেস’ হিসেবে। ১৯৭৮ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে।
স্বাধীনতা পাওয়ার পর পরই বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যা, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ, অনুন্নত অবকাঠামো, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে এই নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
“সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত রাখায় বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশ সম্পর্কে ওই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে।”
দ্রুত নগরায়ন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে শিল্পায়ন বাড়তে থাকায় জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯০ সালেও ২০ শতাংশ ছিল।
তৈরি পোশাক খাতের কল্যাণে ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১০ সালে জিডিপিতে রপ্তানি আয়ের অবদান তিনগুণ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৈরি পোশাক খাতের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়েছে। বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৩০ লাখ নারী কাজ করছে।
“এই অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে অগ্রগতি আসায় মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।”
গত দুই দশকে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯২ সালে ৭০ শতাংশ মানুষ সোয়া এক ডলারের কম ব্যয়ে দিন পার করলেও ২০১০ সালে এ হার ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
কৃষি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক গ্রামীণ মানুষের জন্য নির্মাণ খাত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে এবং বিদেশ থেকে কম দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিকের পাঠানো রেমিটেন্স বছরে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
চাকরি ও শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় সমাজে তাদের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দরিদ্র, তরুণ ও নারীবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্ব ব্যাংক মনে করে।
“এ সবের কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরো কার্যকর বিনিয়োগে উৎসাহ আসছে।”
বাংলাদেশে যে সব সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলোও ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তাতে বলা হয়েছে, “দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় অনেক বেশি। বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই নিয়মিত। অনেক রাস্তার অবস্থাই ভালো নয়, যেগুলোর অবস্থা ভালো সেগুলোতে যানজট দেখা দেয়।”
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩ -এর ভূমিকায় বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ খাত থেকে।”
“বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সহায়ক অবস্থা সৃষ্টিতে সরকারগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে”, যোগ করেন তিনি।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন