রাজধানীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ আহত হয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশীরা জানান, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কবি নজরুলের ছাত্রদের সঙ্গে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর বাকবিত-া থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে কতোয়ালী থানার অপারেশন অফিসার মাহমুদুল ইসলাম জানান, কবি নজরুল কলেজ ক্যাম্পাসের অগ্রণী ব্যাংকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী টাকা জমা দিতে গেলে কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে বাকবিত-া হয়। ওই ভর্তিচ্ছু ছাত্র বিষয়টি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দুই বন্ধু রুম্মন ও মাহিকে জানালে তারা কবি নজরুল কলেজে যায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবার বাকবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে মারধর করে কবি নজরুলের ছেলেরা। রুম্মন ও মাহি রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরলে জগন্নাথের ছাত্ররা একাট্টা হয়ে কবি নজরুলে হামলা চালায়। তারা কলেজের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা পাঁচটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং ভাংচুর শুরু করে। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের ছোড়া ঢিলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০জন আহত হন বলে মাহমুদুল ইসলাম জানান। আহতদের মধ্যে ৫ পুলিশ সদস্যকে স্থানীয় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া কবি নজরুলের অন্তত ২৫ শিক্ষার্থী পুরান ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, “দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মারামারির ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর কাঁদানে গ্যাসের ২৪টি শেল এবং পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা জানান, ছাত্রদের সমস্যার সুরুহা করতে কবি নজরুল কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তারা।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন