অবৈধ সম্পদ থাকার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেছেন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক সহকারী ওমর ফারুক তালুকদার।
জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জুহুরুল হক আবেদনটি ১ ডিসেম্বর শুনানির জন্য অবকাশকালীন বিচারকের আদালতে পাঠিয়ে দিয়ে ওই সময় পর্যন্ত তার জামিন বহাল রেখেছেন।
ফারুক মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাওয়ার পর বিচারক এই আদেশ দেন।
তার আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এ মামলায় হাই কোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছিলেন সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএস। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ফারুক।
বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ধরা পড়া ফারুকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সোমবার আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা। এতে বলা হয়, ফারুক কমিশনে সম্পদের প্রকৃত তথ্য দেননি।
আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ থাকার অভিযোগ এনে গত ১৪ অগাস্ট রমনা থানায় রাশেদুর রেজাই মামলাটি করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওমর ফারুক অবৈধভাবে ১ কোটি ৪২ লাখ ৭৩ হাজার ১৮০ টাকার সম্পদ উপার্জন করেছেন। এছাড়া তিনি সম্পদ বিবরণীতে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।
গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ফটকে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে বিপুল অর্থ পাওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল ওঠে।
ফারুকের সঙ্গে সেদিন ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমের খবর, যা নিজের বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, রেলে নিয়োগে ঘুষ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল ওই অর্থ।
রেলের বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহা ব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধার এবং কমান্ড্যান্ট এনামুল হকও ওই গাড়িতে ছিলেন।
ওই ঘটনার পর এপিএসকে বরখাস্ত করেন সুরঞ্জিত। এরপরও অব্যাহত সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেন সুরঞ্জিত, পরে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়।
ইউসুফ মৃধা ও এনামুলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর তবে যে ব্যক্তি এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন বলে বলা হচ্ছে, সেই গাড়িচালক আজম খান ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ।
তবে অজ্ঞাত স্থান থেকে সম্ú্রতি বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আজম দাবি করেন, ফারুকের কাছে পাওয়া ওই অর্থ রেলে নিয়োগে ‘ঘুষ’ হিসেবে নেয়া হয়েছিল এবং ওই টাকা সুরঞ্জিতের বাড়িতে নেয়া হচ্ছিল।
তবে সুরঞ্জিত গাড়িচালক আজমের ওই বক্তব্য উড়িয়ে দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন ঘটনার তদন্ত শুরুর পর ফারুককে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তলব করা হয় আজম খানকেও, তবে তিনি হাজির হননি।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন