চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট জংশনে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) গার্ডার ভেঙে ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সূত্র নিহত হওয়ার এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও আটজনের লাশ উদ্ধার করেছে। আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। এই নয়জন এবং গতকাল উদ্ধার করা চারজনসহ নিহত ব্যক্তির সংখ্যা মোট দাঁড়াল ১৩।
এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। উত্তেজিত লোকজন মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আধা ঘণ্টা পরেই মন্ত্রী সেনাসদস্যদের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মন্ত্রী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা কবে এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনজুর মোরশেদ প্রথম আলো ডটকমকে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল উড়ালসড়কটির তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহূত একটিসহ আটটি গাড়ি ও একটি জেনারেটর এবং ঠিকাদারের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর মধ্যে প্রথম আলোর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হামিদউল্লাহর একটি মোটরসাইকেলও রয়েছে। বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পাঁচ মাস আগে গত ২৯ জুন চান্দগাঁও থানা ভবনের সামনে এ উড়ালসড়কের দুটি পিলারের মাঝামাঝি একটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। ওই দিন জুমার নামাজের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তায় তখন মানুষের চলাচল কম ছিল।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বহদ্দারহাট জংশনে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের মার্চ থেকে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। উড়ালসড়কটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৩৩২ কিলোমিটার আর প্রস্থ ১৪ মিটার বা ৪৬ ফুট। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ১০৬ কোটি টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার-পারিসা (জেভি) উড়ালসড়কটি নির্মাণ করছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘দুটি পিলারের সংযোগ সৃষ্টিকারী গার্ডারগুলোর মধ্যে ক্রস গার্ডার (লোহার রড দিয়ে সংযোগ) দিতে হয়। ক্রস গার্ডারের কাজ শেষ করার আগে ওজন ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা দরকার ছিল। এটির তা ছিল না বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমার ধারণা।’

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন