বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা আটটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব কোম্পানিকে ‘বিশেষ প্রণোদনা’ দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো বলছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাতে তাদের নীতি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি ‘স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক নীতিমালা’ করাটাও জরুরি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, “আমাদের দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিমান পরিবহনের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে নতুন বলা যায়। এ ব্যবসায় মোটা অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই সরকারের উচিত হবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।”
এই প্রণোদনার মধ্যে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের শুল্কমুক্ত আমদানি, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো থেকে অবতরণ ও পার্কিং চার্জ মওকুফ করা এবং সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের মতো সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি মত দেন।
বাংলাদেশে বিমান পরিবহন ব্যবসার কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে মন্তব্য করে ওয়াহেদুল আলম বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে ‘একটি নিরাপদ পরিকল্পনা কাঠামো’ করে দিতে পারে যাতে বিমান সংস্থাগুলো ‘মেরুদ- সোজা করে’ দাঁড়াতে পারে।
“দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ‘ওড়ার সময়’ খুব সংক্ষিপ্ত। যাত্রীও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অথচ বিমান সংস্থাগুলো এসব রুটে ব্যবহার করছে জেট উড়োজাহাজ, যা কোনোভাবেই সাশ্রয়ী হয় না।”
তার মতে, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১৮ থেকে ২০ আসনের উড়োজাহাজই সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসা পরিকল্পনা সাজানো প্রয়োজন বলে মনে করেন ওয়াহেদুল আলম।
বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করতে রক্ষণাবেক্ষন ও জ্বালানির জন্য একটা খরচ হয়। এরপর যদি কোনো উড়োজাহাজকে সি চেক এর জন্য যেতে হয় তার জন্যও একটি বড় অংক খরচ করতে হয়। তাই দেখা যায়, কোনো সংস্থা দুই/তিন বছর ব্যবসা পরিচালনা করলেও পরে খরচ সামাল দিতে না পারায় ব্যবসা গুটিয়ে নেয়।”
সাধারণত একটি উড়োজাহাজকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি তিন বছর পরপর ‘সি চেক’ বা মেরামতে যেতে হয়।
১৯৯৬ সালে অনুমতি পাওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট আটটি বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করলেও বর্তমানে কেবল রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ- কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নভোএয়ার নামে আরেকটি কোম্পানির কাজ শুরুর কথা রয়েছে আসছে ডিসেম্বরে।
গত ১৫ বছরে বিভিন্ন মেয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করে বন্ধ হয়ে গেছে অ্যারো বেঙ্গল, এয়ার পারাবত, রয়েল বেঙ্গল, এয়ার বাংলাদেশ, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও বেস্ট এয়ার।
এর কারণ হিসেবে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় না বাড়া এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থতার কথা বলেছে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো।
চালু থাকা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এভিয়েশন ব্যবসা সম্পর্কে বেশিরভাগ ব্যাংকের ভালো ধারণা না থাকায় ঋণ পেতে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।”
“তাছাড়া আমাদের দেশে এখনো এ খাতে কাজ করার মতো দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠেনি। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়”, বলেন তিনি।
ইমরান আসিফ মনে করেন, দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের ‘একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক নীতিমালা’ করা উচিত। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মার্কেটিং সাপোর্ট ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামও একই ধরনের কথা বললেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ বাজার সম্ú্রসারিত না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয় বিমান সংস্থাগুলোকে। বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি এয়ারলাইন্সের একজন সাবেক কর্মকর্তা- যিনি বর্তমানে অন্য একটি বিমান সংস্থায় কাজ করছেন- বলেন, “শুরুর দিকে জিএমজি ভালোই চলছিল। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনার অভাব এবং আরো কিছু সমস্যার কারণে পরে আর ব্যবসা চালানো সম্ভব হয়নি।” বেসরকারি খাতের এসব সমস্যার কথা স্বীকার করলেন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব খুরশীদ আলম চৌধুরীও। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ মুহূর্তে বেশি কিছু বলতে না পারলেও এটুকু বলতে চাই যে, সরকার এ খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার চিন্তা করছে।”
ইমরান আসিফ মনে করেন, দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের ‘একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক নীতিমালা’ করা উচিত। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মার্কেটিং সাপোর্ট ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামও একই ধরনের কথা বললেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ বাজার সম্ú্রসারিত না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয় বিমান সংস্থাগুলোকে। বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি এয়ারলাইন্সের একজন সাবেক কর্মকর্তা- যিনি বর্তমানে অন্য একটি বিমান সংস্থায় কাজ করছেন- বলেন, “শুরুর দিকে জিএমজি ভালোই চলছিল। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনার অভাব এবং আরো কিছু সমস্যার কারণে পরে আর ব্যবসা চালানো সম্ভব হয়নি।” বেসরকারি খাতের এসব সমস্যার কথা স্বীকার করলেন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব খুরশীদ আলম চৌধুরীও। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ মুহূর্তে বেশি কিছু বলতে না পারলেও এটুকু বলতে চাই যে, সরকার এ খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার চিন্তা করছে।”


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন