
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে আগামী ২৭ নভেম্বর। গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারের বৈঠকে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক প্রস্তাব সংবলিত আবেদন চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।
তবে যে দুটি ব্যাংক তাদের ব্যবসায়িক প্রস্তাব জমা দিতে না পেরে সময়ের আবেদন করেছে তাদের সময় দেওয়া হবে কি না তার সিদ্ধান্ত হবে এ সভায়।
জানা গেছে, অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গত ১৬ অক্টোবর। শেষ দিন পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৭টি ব্যাংক চূড়ান্ত ব্যবসায়িক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আর দুটি ব্যাংক সময় চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। ব্যাংক দুটির পক্ষে আরো ছয় মাস সময় চাওয়া হয়। ব্যাংকগুলো হলো, মধুমতি ব্যাংক ও একটি এনআরবি (অনাবাসি) ব্যাংক। মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। আর এনআরবি ব্যাংকের প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইকবাল চৌধুরী। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা।
জমা করা আবেদন কেন এবারের বোর্ড সভায় যাচ্ছে না এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, যে ৭টি ব্যাংক আবেদন করেছে তাতে নানা ক্রটি-বিচ্যুতি আছে। সেগুলো সংশোধন করে দিতে বলা হচ্ছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করতে আরো সময় লাগবে। সব কাগজপত্র ঠিক মতো পেলে এবং আবেদন পূর্ণাঙ্গ হলে সেগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে কাজ শুরু করা হবে। এসব কাজ চলছে। তবে এতো তাড়াহুড়া করার বিষয় নয়। তাছাড়া এর দরকারও নেই।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আবেদন বাছাই করে পরে এগুলো যাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)। সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের দেওয়া আয়করের বিষয়ে তথ্য যাছাই করতে। সেখানেও হয়তো মাসখানেক সময় লেগে যেতে পারে। তারপর তারা যে পরিশোধিত মূলধনের পে-অর্ডার করেছে তা সঠিক কিনা ব্যাংকের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। প্রত্যেক পরিচালকের ঋণতথ্য (সিআইবি) প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে হবে। প্রত্যেকটি কাজ খুব গুরুত্ব দিয়ে এবং নির্ভুলভাবে করতে হবে। এসব করতে সময় লাগবে। এর আগে এসব প্রস্তাব বোর্ডে পাঠানো যাবে না।
সূত্র বলছে, সবগুলো আবেদন এক সঙ্গে বোর্ডের সভায় তোলা সম্ভব না হলে একটি একটি করে তোলা হতে পারে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী এসে সরাসরি একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আমানত সংগ্রহ, ঋণ পরিকল্পনা, পণ্য ও সেবার যাবতীয় বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তার জবাব দিতে হবে। এরপরই চূড়ান্ত হবে লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি।
সূত্র জানায়, মেঘনা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছে।
তবে সময়ের জন্য যে দুটি ব্যাংক আবেদন করেছেন তাদের সময় দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ছয়মাস সময় দেওয়া নাও হতে পারে। কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে অনুমোদন ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা মনিটরিং করার জন্য এরই মধ্যে একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবৃদ্ধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াদুদকে সমন্বয়ক করা হয়েছে। এই কমিটি অনুমোদন চাওয়া ব্যাংকগুলোর প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখবে।
গত এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখে ৬ মাস সময় বেধে দিয়ে অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট—এলওআই) ইস্যু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছর ৩ এপ্রিলে প্রবাসীদের মালিকানাতে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের মালিকানাতে ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্যাংকের জন্য আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। মোট ৩৭টি আবেদন জমা পড়ে নতুন ব্যাংকের জন্য।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন