রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ থেকে ছয় বছরের শিশু পরাগ মণ্ডলকে অপহরণের ঘটনার বিবরণ দিয়েছে র্যাবের হাতে আটকরা।
“কেরাণীগঞ্জের শিশু পরাগকে অপহরণের সময় আমীর ওরফে ল্যাংড়া আমীর ও আলামীন পরাগের মা, বড়বোন ও গাড়ির ড্রাইভারকে গুলি করে আহত করে পরাগকে ছিনিয়ে নেয়। পরে দুটি মোটর সাইকেলে করে তারা পালিয়ে যায় পরাগকে নিয়ে।”
বৃহস্পতিবার র্যাব সদর দপ্তরে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেয় আটক অপহরণকারীদলের সদস্য জাহিদুল (১৯)
জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল নিজেকে রাজধানীর ধনিয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানায়। তার বাবা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি করেন।
উল্লেখ্য, অপহরণের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে র্যাব রাজধানীর জুরাইন ও কেরাণীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ছয়জনকে আটক করে। জাহিদুল এদেরই একজন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনায় জড়িতদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয। এ সময় তারা প্রত্যেকেই আলাদাভাবে ঘটনার সময় কে কি করেছে এর বিবরণ দেয়।
জাহিদুল জানায়, ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে আমীরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় জমিজমা নিয়ে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিরোধ আছে বলে সে জানায়। এ কারণে ঘটনার দিন সকালে আমীর তাকে বিমল মণ্ডলের বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে আমীর তার হাতের মোবাইলটি নিয়ে তাকে অন্য একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেয়।
সকাল সোয়া ৭টার দিকে আমীর ও আলামীন পরাগের মা, বড় বোন ও তাদের গাড়ির ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পরাগকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
তবে অপহরণের পর তারা পরাগকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল সেটা জাহিদুল জানে না বলে জানায়।
জাহিদুল আরো জানায়, ঘটনাটি অপহরণ এটা বোঝার পর ওইদিন রাতে সে এবং তার আরেক সহযোগী রিফাত সাভারের ভাকুর্তা এলাকার চরমাসি গ্রামে আমীরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেমের বাড়িতে ছিল।
টাকার লোভে সে এ কাজ করেছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যায় জাহিদুল।
গ্রেফতারকৃত আরেক অপহরণকারী কালাচাঁন জানায়, এক থেকে দেড় মাস আগে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে তাকে একটি সিএনজি অটোরিক্সা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় আমীর। আর এর বিনিময়ে বিমল মণ্ডল, স্ত্রী ও সন্তানেরা কে কখন কোথায় যায় এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সেটা তাকে জানাতে বলা হয়।
তিনি জানান, ঘটনার এক সপ্তাহ আগ থেকে সে বিমল মণ্ডল ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি শুরু করে। ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৭টায় সে বিমলের বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয় এবং মোবাইল ফোনে বিমল ও তার পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি সম্পর্কে আমীরকে জানাতে থাকে। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়েই আমীর ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুলি ছুঁড়ে আহত করে পরাগকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এভাবে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত অন্যরাও তাদের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান কর্নেল জিয়াউল আহসান, র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল, র্যাব-১০ এর পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কেরানীগঞ্জের সুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ায় তাদের বাসার প্রায় ৫০ গজ দূরে গলির মুখে বোন পিনাকি মণ্ডলের পায়ে ও মা লিপি মণ্ডলের বুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা ছোট্ট পরাগকে ছিনিয়ে নেয়। পরাগ সদরঘাটের হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কেজি ওয়ানের ছাত্র।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার মিল এলাকায় পরাগকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এরপর পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল তাঁকে উদ্ধার করে রাতেই রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরাগ মণ্ডলকে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরও বলেছেন, ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পরাগকে মুক্ত করার সংবাদ সত্য নয়। এই সংবাদের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন