
পোশাক রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান তাজরিন ফ্যাশনসে কাজের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না আমদানিকারকরা।
তাই তুবা গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানকে কাজের পরিবেশের মানদণ্ডে ‘অরেঞ্জ’ তালিকায় রেখেছিল তাদের পোশাকের মূল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়াল-মার্ট।
শনিবার সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তাজরিনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে ওয়াল মার্টের মূল্যায়ন তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস।
২০১১ সালের ১৬ মে ওয়াল-মার্টের একজন নিরীক্ষা কর্মকর্তা তাজরিন ফ্যাশনসকে ‘অরেঞ্জ’ শ্রেণিভুক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়।
কর্মস্থলের পরিবেশের ভিত্তি করে ওয়াল-মার্ট যে শ্রেণিগুলো তৈরি করেছে, সেগুলো হল- গ্রিন, ইয়েলো, অরেঞ্জ ও রেড।
কর্মস্থলের পরিবেশ সবচেয়ে খারাপ হলে ওই প্রতিষ্ঠান ‘রেড বা লাল’ শ্রেণিতে পড়ে এবং পরপর দুই বছরে তিন বারের নিরীক্ষায় কোনো প্রতিষ্ঠান ‘অরেঞ্জ’ রেটিং পেলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে ‘রেড’ রেটিং দিয়ে তাদের কাছ থেকে আমদানি বন্ধ করে দেয় ওয়াল-মার্ট।
সবচেয়ে ভালো পরিবেশ যে সব প্রতিষ্ঠানে থাকে, সেগুলোকে রাখা হয় ‘গ্রিন বা সবুজ’ শ্রেণিতে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্প কারখানার পরিবেশ নিয়ে আমদানিকারক দেশগুলো বরাবরই সমালোচনামুখর। বেতন-ভাতা ও কর্মস্থলে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেশে এই খাতের শ্রমিকদেরও অসন্তোষ রয়েছে।
ওয়াল-মার্টের নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে তাজরিন ফ্যাশনসকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হলেও কী কী কারণে তাদের এই মূল্যায়ন, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।
শুধু বলা হয়েছে, “কারখানাটিতে কিছু শর্ত মানা হয়নি, যা একে (পরিবেশ) ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।”
এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তাজরিন ফ্যাশনস কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডস্থলে কাউকে দেখা যায়নি।
তবে তুবা গ্রুপের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, মে মাসে ‘অরেঞ্জ’ দিলেও দুই মাস পরই তাজরিন ফ্যাশনসের রেটিংয়ে উন্নতি ঘটে। সেখানে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজরিনের অবস্থান ‘ইয়েলো’ শ্রেণিতে।
বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের খরিদ্দারদের মধ্যে ওয়াল-মার্ট ছাড়াও রয়েছে এইচ অ্যান্ড এম, টমি হিলফিগারের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন