
চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে বের হয়ে ছিল একটি বিচ্ছিন্ন পা। এই পা আর প্যান্টের পকেট থেকে পাওয়া সিমের মাধ্যমে তরুণ সাজ্জাদ হোসেনের (২০) লাশ শনাক্ত করলেন স্বজনরা। পরে শুধু পা-ই কবর দেন তারা।
বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভেঙে পড়া কংক্রিট কাঠামোর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরো লাশ। রোববার সকাল পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। কিন্তু পা ছাড়া সাজ্জাদের শরীরের বাকি অংশ খুঁজে পায়নি তার পরিবার।
তার বড় চাচা আবুল কালাম বলেন, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে গল্প করতে বাসা থেকে বের হয় রাজমিস্ত্রির কাজ করা সাজ্জাদ। তার এক বন্ধু মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে সাজ্জাদ বসেছিল থাকে ফ্লাইওভারের নিচে পুকুরপাড়ে। তখনই ভেঙে পরে ফ্লাইওভারের গার্ডার।
সাজ্জাদের মারা যাওয়ার খবরটি জানান তার বন্ধু। বিষয়টি শুনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান আবুল কালাম।
কান্না জর্জরিত কণ্ঠে কালাম বলেন, “আমরা ছুটে গিয়ে তার লাশ দেখতে না পেরে খুঁজতে থাকি। পরে ঘটনাস্থলে দেখতে পাই একটি বিচ্ছিন্ন পা পড়ে আছে।
তিনি বলেন, “প্রথমে বুঝতে না পারলেও প্যান্টের পকেটে পাওয়া যায় তার মোবাইল ফোনের একটি সিম। পরে সিমে স্বজনদের মোবাইল নাম্বার দেখে শনাক্ত করি এটি সাজ্জাদেরই পা।”
আবুল কালাম জানান, পা পাওয়া গেলেও পুরো শরীরের অন্যান্য অংশ পাওয়া যায় নি। শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় জানাজা পড়ে সাজ্জাদের পা কবর দেওয়া হয়।
“শরীরের পুরো অংশটা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি এখনও”, বলেন কালাম।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন