আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ‘পরিচয়হীন’ ৫৩ শ্রমিকের লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করেছে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।
জীবন্ত দগ্ধ হওয়া এই শ্রমিকদের দুই দফা জানাজার পর মঙ্গলবার বিকালে দাফন করা হয়। পরে কোনো স্বজন আত্মীয়তার দাবি নিয়ে এলে যাতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, সেজন্য প্রত্যেকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দাফনের পর প্রত্যেকের ফলকেও একটি শনাক্তকারী নম্বর উল্লেখ করা হবে।
শনিবার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১০ জন নিহত হওয়ার সরকারি হিসাব পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ৬০টি লাশের দাবিদার না থাকায় সেগুলো দাফনের জন্য প্রথমে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে দেয়া হয়। পরে সিদ্ধান্ত বদলে স্বজনদের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষার কথা জানায় জেলা প্রশাসন।
মোট ৭ জন স্বজন তাদের পরিবারের সদস্যকে শনাক্ত করে লাশ নিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাকি মরদেহগুলো আঞ্জুমানের কাছে হস্তান্তর শুরু করে জেলা প্রশাসন।
ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, “কাল রাতে আমাদের কাছে ৫৫ জনের লাশ ছিল। আজ জাহেদা ও মরিয়ম নামের দুই নারীকে শনাক্ত করে লাশ নিয়ে গেছেন তাদের স্বামীরা। আমরা ৫৩ জনের মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমানে মফিদুলে হস্তান্তর করছি।”
আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হালিম বলেন, “জুরাইন কবরস্থানে দাফনের আগে মর্গের সামনে এবং কবরস্থানে নিয়ে দুই দফা জানাজা পড়া হবে। সবার লাশই ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করব আমরা।”
তিনি জানান, এই অশনাক্ত লাশগুলোর ডিএনএ নমুনার ভিত্তিতে প্রত্যেকের কবরে একটি করে নম্বর সম্বলিত ফলক থাকবে, যাতে পরে কারো স্বজনের খোঁজ মিললে ডিএনএ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়।
এই ৫২ জনের মধ্যে কতোজন নারী আর কতোজন পুরুষ- তা জানাতে পারেননি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।
তিনি বলেন, “লাশগুলো এতোটাই পোড়া যে এ বিষয়গুলো বাইরে থেকে পরীক্ষা করা প্রায় অসম্ভব ছিল।”


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন