শিশু পরাগ মণ্ডলকে অপহরণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিন
আসামি। তাঁরা সবাই কাশেমের শ্যালক আমিরকে পরাগ অপহরণের পরিকল্পনাকারী
হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জবানবন্দিতে আসামি জাহিদুল হাসান ও মোহাম্মদ আলী
ওরফে রিফাত বলেন, গত রোববার সকালে আমির নিজেই গুলি করে শিশু পরাগকে তার
মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেন।আজ শুক্রবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আসামি মোহাম্মদ আলী রিফাত, জাহিদুল ইসলাম ও কালাচাঁদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত সূত্র জানায়, আসামিরা বলে স্বীকারোক্তি দেন, তাঁরা অপহরণে সরাসরি অংশ নেননি। তবে অপহরণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী রিফাত ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত রোববার সকাল সোয়া সাতটার দিকে স্কুলে যাওয়ার সময় কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার বাসার সামনে থেকে শিশু পরাগকে অপহরণ করতে মা লিপি মণ্ডল, বোন পিনাকী মণ্ডল ও তাঁদের গাড়িচালক নজরুলকে গুলি করেন আসামি আমির। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাজী শহিদুল ইসলাম তাঁর খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে শিশু পরাগকে অপহরণের পর তাকে কোথায় রাখা হয়, তা জানেন না বলে জবানবন্দিতে বলেন আসামিরা। তাঁরা বলেন, ঘটনাস্থলের পাশেই মোটরবাইক নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন আসামি আলামিন। তিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। আল আমিন ও আমির তাঁদের মাঝখানে শিশু পরাগকে বসিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি রিজভি আহমেদ, আলফাজ ও আবুল কাশেমকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পরাগ অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গত বুধবার রাতে কেরানীগঞ্জ ও রাজধানীর জুরাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে । ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার গভীর রাতে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগকে উদ্ধার করা হয়।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন