
নিজ শয়নকক্ষে ঘাতকের হাতে নিহত বাংলাদেশি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘকে র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।
একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পরিচালিত তদন্তের যথাযথ অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। এছাড়া র্যাবকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘সহিংস’ পুলিশ ইউনিট হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ বন্ধের আহবান জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তারা এ আহবান জানায়।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে দাবি করে, নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিজের পিতামাতাকে হারানো ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা সব যুক্তিতেই অবৈধ ও অমানবিক।
সংগঠনটি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উল্লেখ করে, “আমরা এ ব্যাপারে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার জন্য বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”
এ মামলার দায়িত্ব থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের হাতে মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়ারও আহবান জানানো হয় বিবৃতিতে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিবৃতিতে বলা হয়, “আপনি যথার্থই বলেছেন যে, সরকার প্রত্যেকের বেডরুমের বাইরে প্রহরী মোতায়েন করতে পারে না। কিন্তু নাগরিকদের রক্ষা ও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনার সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা আপনার কর্তব্য।”
এদিকে মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে দেশে বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া র্যাবের মুখপাত্র অবশ্য মেঘের সঙ্গে তাদের কথোপকথনকে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকার করেন। মেঘ তার চাচার সঙ্গে র্যাব হেডকোয়ার্টারে উপস্থিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এমনিতেই বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তলানির দিকে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচকে ২০১১-২০১২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯ টি দেশের মধ্যে ১২৯ তম।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ নিজ অ্যাপার্টমেন্টে হত্যার শিকার হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন