যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো এক ঐতিহাসিক সফরে মিয়ানমার পৌঁছেছেন বারাক ওবামা। প্রায় অর্ধশতাব্দী সামরিক শাসনে থাকার পর গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই দেশটিতে সফরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সোমবার সকালে তাকে বহনকারী বিমানটি মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে অবতরণ করে।
মিয়ানমারে তার ৬ ঘণ্টা অবস্থান করার কথা রয়েছে। এই সময়ে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সুচি’র সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তবে রাজধানী নাইপে দো যাবেন না। ইয়াঙ্গুন থেকেই পরবর্তী দেশ কম্বোডিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তিনি।
কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন ওবামা।
দীর্ঘদিন সামরিক শাসনে থাকার পর ২০১১ সালের মার্চে মিয়ানমারের প্রথম বেসামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তবে এই বেসামরিক সরকারের প্রধানদের প্রায় সবাই সাবেক শীর্ষ সামরিক আমলা। এই সরকারের পেছনে সেনাবাহিনীর সমর্থন থাকার বিষয়টিও কারো অজানা নয়।
মিয়ানমার সরকারের প্রধান হিসেবে থিয়েন সেইন দেশটিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরু করেন। কঠোর সামরিক শাসনের কারণে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল দেশটি।
বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী সুচি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালাতে গিয়ে সামরিক জান্তার রোষানলে পড়েন।
প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকতে হয় তাকে। সুচির আন্দোলন, বিশ্বব্যাপী সামরিক সরকারের বিরোধিতা ও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ক্ষমতা থেকে সরতে হয় সামরিক বাহিনীকে।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তৈরি রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে তবেই তারা গদি ছাড়ে।
নতুন বেসামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরু করে।
মিয়ানমারের এই গণতান্ত্রিক সংস্কারে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
এর পরপরই দ্বিতীয় মেয়াদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় দেশটি সফরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা।
গণতান্ত্রিক সংস্কার এখনও পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় ও সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ব্যাপারে সরকারের উদাসিনতা সত্ত্বেও সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
তারা মিয়ানমারে ওবামার এ সফরকে ‘অকাল সফর’ বলে বর্ণনা করেন।
তবে সফরকালে জাতিগত ও সা¤প্রদায়িক সহিংসতার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে ওবামা চাপ দেবেন বলে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এই সহিংস কর্মকাণ্ডকে ‘জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের কাজ’ বলে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট বিবৃতি দেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন