অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলা বাতিল করেছে হাই কোর্ট।
মামলা বাতিলে একটি রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চ এই রায় দেয়।
আদালতে সাজেদা চৌধুরীর পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এবং দুদকের পক্ষে মো. খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
২০০৮ সালের ১০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোজাহার আলী সরদার রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাজেদা চৌধুরী অবৈধভাবে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৩ টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি ৯ লাখ টাকা এবং রাজধানীর বনানীতে একটি প্লট কেনার জন্য ৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। সম্পদের হিসাব বিবরণীতে এই অর্থের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। কমিশনের তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সাজেদা চৌধুরীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ৫৩ লাখ ৪১ হাজার ৭৬ টাকার সম্পত্তি এবং একশ তোলা ওজনের সোনার গহনার হিসাব কমিশনে জমা দেন।
ওই মামলা বাতিলে গত ১৪ অক্টোবর সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী হাই কোর্টে আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে ১৭ অক্টোবর একই বেঞ্চ মামলা বাতিলের রুল দিয়ে মামলার কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে।
ওই সময় আদালত রুলে ‘মামলা বাতিলে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না’, তা জানতে চায়। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে মামলাটি বাতিল করলো আদালত।
রায়ের পর দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, মামলা বাতিলে দেওয়া রুল চূড়ান্ত করে হাই কোর্ট ওই মামলাটি বাতিল করে দিয়েছে। আমি আদালতের এই রায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানিয়েছি। এই মামলায় আপিল করা হবে কি-না, সে ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন