
চিকিৎসকদের জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এই ভোট চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৩ হাজার ৮৯২ জন। তাদের ভোটে নির্বাচিত হবে ৪১ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ।
সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে বার কাউন্সিল নির্বাচনে পরাজয়ের পর চিকিৎসক পেশাজীবীদের এই নির্বাচন দেখা হচ্ছে গুরুত্বের সঙ্গে।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) তাদের সমমনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোর সমর্থন ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
স্বাচিপের প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান। মহাসচিব পদে লড়ছেন ইকবাল আর্সলান।
অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এই প্যানেলে সভাপতি পদে আজিজুল হকের সঙ্গে মহাসচিব পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী উভয় প্যানেলের নেতারাই বলেছেন, বিএমএর নীতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ১৯৯০ সালের পর থেকেই চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি তাদের ‘পেশাগত বৈশিষ্ট্য’ হারিয়ে ফেলছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এটি কাজ করছে ক্ষমতাসীন সরকারের অনুগত সংগঠনের মতো।
নির্বাচনে দুই প্যানেলের তরুণ প্রার্থীরাও বলছেন, তারা বিএমএতে পরিবর্তন চান। তবে নির্বাচন থেকে দূরে থাকা বামপন্থী দলগুলো তাদের এই পরিবর্তনের আহ্বানের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্বাচিপ প্যানেলের মহাসচিব প্রার্থী ইকবাল আর্সলান বলেন, “আমরা এর (বিএমএ) পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট করে ফেলেছি। আমি এখন সেটি ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু আমি জানি এই কাজটি অত্যন্ত কঠিন...... কিন্তু এটি আমার চ্যালেঞ্জ।”
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মপ্রত্যয়ী সরকার সমর্থক এই চিকিৎসক।
ড্যাব প্যানেলের মহাসচিব প্রার্থী জাহিদ হোসেন বলেন, জিততে পারলে তারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে ভূমিকা রাখবেন।
তবে নির্বাচন ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ’ হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা।
জাহিদ অভিযোগ করেন, “অযোগ্য, অদক্ষ এবং নিচু মনের ডাক্তাররা গত তিন বছর ধরে বিএমএর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন তারা আমাদের ডাক্তারদেরকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।”
বিএমএর সাবেক সভাপতি ও সিপিবি সমর্থিত ডক্টরস ফর হেলথ অ্যানভায়রনমেন্টের সভাপতি রশীদ-ই-মাহবুব মনে করেন, একটি পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে দেশের চিকিৎসক তথা সাধারণ জনগণের কল্যাণে বিএমএর ভূমিকা রাখার কথা হলেও বাস্তবে সংগঠনটি ‘দলীয় রাজনীতিতে’ ব্যস্ত।
“এটি ক্ষমতাসীন দলের অনুগত সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।”
জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ চিকিৎসক সংসদের সাধারণ সম্পাদক এম মুশতাক হোসেন বিশ্বাস করেন না যে স্বাচিপ ও ড্যাব বিএমএতে পরিবর্তন আনতে পারে।
“রাজনৈতিক দলগুলোর প্রয়োজনে তাদের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বিএমএর চেয়েও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোই তাদের কছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন