নয়া পল্টনে বুধবারের জনসভা আয়োজনের অনুমতি এখনও না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি।
বিএনপির সহসভাপতি ও মহানগর ১৮ দলীয় জোটের আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ বিফ্রিংয়ে বলেন, “নয়া পল্টনে জনসভার জন্য ১০ দিন আগে অনুমতি চেয়ে মহানগর পুলিশ প্রশাসনের কাছে পত্র দেওয়া হলেও এখনো তারা কোনো অনুমতি দেয়নি। তাদের এহেন আচরণে আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি।”
“শেষ মুহূর্তে হয়ত তারা অনুমতি দেবে। উদ্দেশ্য যাতে আমাদের জনসভার কোনো প্রস্তুতি না থাকে। লোকসমাগম বেশি না ঘটতে পারে”, যোগ করেন তিনি।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের এই জনসভা হবে যাতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি জনসমাগম ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
“সরকার অনুমতি না দিলেও বুধবার দুপুর ২টায় নয়া পল্টনে জনসভা হবেই। এ যাবতকালে সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম এই জনসভায় হবে বলে আমরা আশা করছি। সেভাবেই আমরা সব প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সাদেক হোসেন খোকা অভিযোগ করেন “২৮ নভেম্বরের জনসভা উপলক্ষে পুলিশ মহানগরীতে প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিয়েছে। ডেমরা, মিরপুর, লালবাগসহ বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কেবল তাই নয়, বিভিন্ন স্থানে আমাদের ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।”
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে জনসভার প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ের শুরুতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এ জনসভা থেকে আমরা নির্দলীয় সরকারের দাবিসহ সরকারের নানা ব্যর্থতার কথা তুলে ধরব। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন ও আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।”
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান, আসাদুল হাবিব দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, রফিক শিকদার, মহানগর যুগ্ম আহবায়ক কাজী আবুল বাশার, আবু সাঈদ খান খোকন, মোহাম্মদ মোহন, যুব দলের আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের মীর শরফত আলী সপু, জাসাসের এম এ মালেক, উলামা দলের হাফেজ আবদুল মালেক, ছাত্র দলের হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দলীয় মহানগর নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী ঐক্যজোটের শেখ লোকমান হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আবদুল মতিন সউদ, খেলাফত মজলিশের নোমান মাজহারী, জাগপার আসাদুর রহমান খান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির খালেদ সাইফুল্লাহ, এনপিপির মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মুসলিম লীগের নজরুল ইসলাম আহসান, লেবার পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, ইসলামিক পার্টির হাবিবুর রহমান, কল্যাণ পার্টির নুরুল কবীর পিন্টু, ন্যাপ এর শহীদুর রহমান ডাবলু, এনডিপির জামিল আহমেদ প্রমূখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন