এফবিসিসিআই নির্বাচনে এক ভোটারকে মারধরের অভিযোগ এসেছে।
রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ভোটগ্রহণের উত্তেজনার মধ্যে শনিবার দুপুর ১টার দিকে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ভোটার হাজী আমিরুদ্দীন বিপু এই অভিযোগ করেন।
আনিসুল হক নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক পরিষদের এই সমর্থক দাবি করেন, কাজী কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন প্যানেলের সমর্থকরা তাকে মারধর করেছে।
আমিরুদ্দীন পেপার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, তার ভোটার নম্বর ৯৪৬।
সকালে আনিসুল হকও ফেডারেশন ভবনে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েন। তারা বলেন, ভোটার কিংবা প্রার্থী না হওয়ার পরও তার সেখানে যাওয়া নিয়ে আপত্তি তোলা হয়।
পরে আনিসুল হক ঢাকা চেম্বার ভবনে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আইনি সীমা লঙ্ঘন না করলেও তাকে বাধা দেয়া হয়।
গণতান্ত্রিক পরিষদের প্রার্থীরা সবাই সাদা পাঞ্জাবি পরে রয়েছেন।
নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে সকাল থেকে ভোট দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সদস্যরা। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফল প্রকাশ করবে নির্বাচনী বোর্ড।
সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকরাই আগামী ২৬ নভেম্বর ঠিক করবেন- কে হবেন সমিতির নতুন সভাপতি।
সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২৫ মিনিট পর। ব্যালট বাক্স এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের বসার স্থান নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান এবং নির্বাচনী বোর্ডের কর্মকর্তাদের বদানুবাদের কারণে ভোটগ্রহণ শুরুতে এই দেরি হয়।
এফবিসিসিআইয়ের আইন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ৩০টি পরিচালক পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল থেকে ৬৩ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে চেম্বার গ্রুপে ৩০ জন ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের সদস্যরা শুধু এই গ্রুপের প্রার্থীদের এবং চেম্বার গ্রুপের সদস্যরা শুধু এই গ্রুপের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবেন। একজন ভোটার সর্বোচ্চ ১৫ জনকে ভোট দিতে পারবেন।
দুটি প্যানেলের মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, যিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস এর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে ইতোমধ্যে সংগঠনটির পরিচালক। তিনি সভাপতি প্রার্থী।
অন্য প্যানেলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, যদিও তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
৭৩টি ব্যবসায়ী চেম্বার ও ৩২৬টি অ্যাসোসিয়েশন এফবিসিসিআইয়ের সদস্য। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৫০টি চেম্বার থেকে ৬ জন করে এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির ২৩টি চেম্বার থেকে ৪ জন করে ভোটার রয়েছেন।
এর বাইরে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৩১৮টি অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৫ জন করে এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির আটটি অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৪ জন করে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে নির্বাচনে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন পক্ষে কারা ভোটার হবেন তা সংশ্লিষ্ট সংঠনের পরিচালনা পর্ষদই নির্ধারণ করে।
এ হিসাবে এবারের নির্বাচনে মোট ১৯৯৮ জন ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যাদের মধ্যে চেম্বার গ্রুপের ৩৯০ জন এবং অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৬০৮ জন।
নির্বাচন পদ্ধতি
প্রতি দুই বছর পরপর এফবিসিসিআইর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হয়। পর্যায়ক্রমে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে প্রতি দুইবছর পরপর সভাপতি নির্বাচন করা হয়।
পরিচালনা পরিষদের মোট সদস্য ৪৮ জন। এদের মধ্যে সদস্য চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে নয়টি চেম্বার ও নয়টি অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে যাদের মধ্য থেকে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পরিষদে একজন করে মোট ১৮ জন পরিচালক মনোনীত হন, যাদের সাধারণ সদস্যদের সমর্থন বা ভোটের দরকার হয় না।
এ ছাড়া বাকি ৩০ জন পরিচালককে সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। এই ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জন চেম্বার গ্রুপ থেকে এবং ১৫ জন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত করা হয়।
নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকরাই আগামী ২৬ নভেম্বর সভাপতি, প্রথম সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত করবেন। ২৯ নভেম্বর নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে বর্তমান কমিটি।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আশরাফ আলী জানান, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন না। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও ব্যাগ সঙ্গে রাখাও নিষিদ্ধ থাকবে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন