গুম হওয়ার অভিযোগ উঠার দুই দিন পর হাই কোর্টে এসে হাজির হয়েছেন ‘কুষ্টিয়ায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতিত’ সেই মা-মেয়ে।
আদালতে হাজির হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার খাস কামরায় তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
আগামী রোববার আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবে।
মা-মেয়েকে ‘গুম’ করা হয় বলে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও মহিলা আইনজীবী সমিতি’র পক্ষে অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী অভিযোগ করেন।
অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী বলেন, মা ও মেয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন। তারা আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে এসে পুলিশ হেফাজতে তাদেরকে নির্যাতন এবং গুমের ইতিপূর্বের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে শুনানির পর মুন্নী আরো বলেন, “ওই মা-মেয়েকে পুলিশই ধরে নিয়ে গিয়েছিল। ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কথা শিখিয়ে পুলিশ তাদেরকে আদালতে নিয়ে এসেছে। পুলিশ ওই মেয়ের ভাইকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে এবং ওই একটি হত্যা মামলায় মা-মেয়েকে আসামী করে দিয়েছে। এখন ওই মামলাকেই ট্রাম্পকার্ড হিসাবে ব্যবহার করছে।”
আদালতে পুলিশের পক্ষে শুনানি করেন, শ ম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
‘৫৪ ধারা, খুনের মামলা তার আগে মা-মেয়েকে আটকে রেখে নির্যাতন’ শিরোনামে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বাজবাড়ী শহরের বাসা থেকে এক বিধবা মা ও তার মেয়েকে ধরে নিয়ে যায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। তাদেরকে খোকসা থানায় আটকে রাখা হয় দুই দিন দুই রাত। সেখানে মেয়েটি নির্যাতনের শিকার হন। সেখান থেকে তাদেরকে নেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে।
গত ১ অক্টোবর ফাহিমা নাসরিন মুন্নী প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করলে হাই কোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করে।
এরপর ১৪ নভেম্বর এই মামলায় পরবর্তী আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে আগামী ২৯ নভেম্বর সেই নির্যাতিত মা-মেয়েকে হাই কোর্টে হাজির করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন