সাফল্যজনকভাবে প্রথম মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী যুক্তরাষ্ট্রের শল্যচিকিৎস যোশেফ মারে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
সোমবার বোস্টনের পিটার বেন্ট ব্রিংহাম হাসপাতালে তিনি মারা যান। ছয় দশক আগে এই বোস্টন হাসপাতালেই তিনি বিশ্বের প্রথম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারটি করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার বোস্টনে নিজ বাসায় পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি দু’জন অভিন্ন যমজের একজনের বৃক্ক (কিডনি) আরেকজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন।
ওই এক অস্ত্রোপচারেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস চিরকালের জন্য পাল্টে যায়। এরপর থেকে এক সময়ের অভাবনীয় বিষয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া সেনাদের শল্যচিকিৎসা করতে গিয়েই তিনি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ধারণা লাভ করেন।
পুড়ে যাওয়া সেনাদের ত্বক প্রতিস্থাপন করতে গিয়ে তিনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা, দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিরোধিতা সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এই অভিজ্ঞতা তিনি কাজে লাগান ব্রিংহাম হাসপাতালের সহযোগী চিকিৎসকদের নিয়ে সাফল্যজনকভাবে কুকুরের বৃক্ক (কিডনি) প্রতিস্থাপন করে।
শল্যচিকিৎসার এই নতুন পদ্ধতি এরপর তিনি মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাজে লাগান।
রিচার্ড হেরিক নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের বৃক্ক (কিডনি) অকেজো হয়ে গেলে তার যমজ ভাই রোনাল্ড হেরিক নিজ বৃক্ক (কিডনি) দিতে এগিয়ে আসে। রোনাল্ডের বৃক্ক (কিডনি) তার ভাইয়ের শরীরে প্রতিস্থাপন করে দেন মারে। এরপর আরো আট বছর বেঁচে ছিলেন রিচার্ড।
১৯৬২ সালে ওষুধ ব্যবহার করে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার বাঁধা অতিক্রম করে তিনি দুইজন অনাত্মীয় ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেন।
১৯৯০ সালে চিকিসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান ডাক্তার মারে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন