মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির জারিকৃত ডিক্রি নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটির ইসলামপন্থী সরকার।
এ লক্ষ্যে ডিক্রির সমর্থনে ডাকা মিছিল-সমাবেশ বাতিল করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড আর বিরোধীদের সঙ্গে আপসরফার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার ডিক্রির কারণে ক্ষুব্ধ বিচারকদের সংগঠন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে বৈঠক করেছেন মুরসি।
জারিকৃত ডিক্রিটির সীমা নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দিয়ে কাউন্সিল বলেছে শুধুমাত্র “সার্বভৌম বিষয়গুলোতে” প্রয়োগ করা হলে বিচারিক পর্যালোচনায় ডিক্রিটিকে বৈধ বলে স্বীকার করে নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে মুরসির মুখপাত্র ইয়াসের আলি বলেন, “প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন বিচারিক কর্তৃপক্ষ ও এর সদস্যদের প্রতি তার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা আছে।”
বিচারকদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কি সমঝোতা হয়েছে জানতে চাইলে আলি বলেন, “যে বিবৃতি আমি পাঠ করলাম তাতে ইঙ্গিত আছে যে বিষয়টি সমঝোতার পর্যায়ে আছে।”
গত বৃহস্পতিবার নতুন ডিক্রি জারি করে নিজের ক্ষমতার সীমা বৃদ্ধি করেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। এই ডিক্রিতে বলা হয়, নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের কোনো সিদ্ধান্তকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
ডিক্রি জারির পরপরই বিরোধীরা তাকে ক্ষমতা অধিগ্রহণ করে আধুনিক ‘ফারাও’ হয়ে উঠছেন বলে অভিযুক্ত করে। ডিক্রিটির প্রতিবাদে এর পর থেকে টানা সহিংস প্রতিবাদ চলতে থাকে। এতে এ পর্যন্ত ১ জন নিহত ও প্রায় ৫শ’ জন আহত হয়েছেন।
সরকারবিরোধীদের পাশাপাশি দেশটির বিচারকদের সর্বোচ্চ সংগঠন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলও ধর্মঘটের ডাক দেয়। পরে সরকার পক্ষের নমনীয়তায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।
বিচারকরা মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও সরকারবিরোধী দলগুলো ডিক্রিটি বাতিল করার দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার কায়রোতে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। একই দিন ডিক্রিটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কায়রোতে মিছিল-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুড।
প্রেসিডেন্ট মুরসি এই মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দুইপক্ষের এই পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশের ঘোষণায় মঙ্গলবার কায়রো রণক্ষেত্রে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে এরই মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুড তাদের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসে জানিয়েছে, মঙ্গলবারের মিছিল-সমাবেশ বাতিল করেছে তারা।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, সৃষ্ট সঙ্কট সামাল দিতে রাজনৈতিক আপসরফার দিকেই যেতে চাচ্ছে সরকার।
মিশরের সরকার বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট মুরসিকে নতুন “স্বৈরাচার” বলে আখ্যায়িত করেছে। জারিকৃত ডিক্রির বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন