ছিঁচকে চুরি দিয়ে হাতেখড়ি। এরপর ছোটখাটো চাঁদাবাজি।অল্প সময়ের মধ্যেই এসবে সিদ্ধহস্ত হয়ে নামলেন গাড়ি ছিনতাই আর অপহরণে। তারপর মুক্তিপণ না পেয়ে মানুষ হত্যা। এখন অবশ্য অপরাধের সব শাখাতেই সমান বিচরণ কেরানীগঞ্জের পরাগ অপহরণের মূল হোতা আমীর হোসেনের।
মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে তিনি। নব্বই দশকের শুরুর দিকে দিনমজুর বাবার সঙ্গে সপরিবারে আসেন ঢাকার কেরানীগঞ্জে। বৃহস্পতিবার বাংলানিউজ এর সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানান আমীরের প্রতিবেশী সোলায়মান আলী।
তিনি আরো জানান, কেরানীগঞ্জের চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আনছার এর ভাগনে আলামিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয় ছিঁচকে চোর আমীরের। আনছার শিগগিরই চাঁদার টাকা তোলার জন্য বিভিন্ন স্হানে তার ভাগনে আলামিনের সঙ্গে আমীরকে পাঠাতে শুরু করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদার টাকা না পেয়ে ১৯৯৪ সালে মোর্শেদ নামে এক ব্যবসায়ীকে হাসনাবাদে গুলি করে আহত করেন আলামিন, সে সময় আমীর তার সঙ্গে ছিলেন। গুলি করার ঘটনার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আমীর। এরপর থেকে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ, শুভাঢ্যা, চুনকুটিয়া, কালিগঞ্জ, জিঞ্জিরা এলাকায় আলামিন আর আমীর যৌথভাবে আনছারের চাঁদা তোলার কাজটি করতেন।
কোনো কোনো সময় চাঁদা না পেলে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে হুমকি ধামকি দিয়ে চলে আসতেন আমীর।
সে সময় সন্ত্রাসী আনছরের কাছে একটি একে-৪৭ রাইফেল ছিলো। আর এই অত্যাধুনিক রাইফেল দিয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন আনছার।
১৯৯৫ সালে শেষের দিকে ওই রাইফেল উদ্ধারে জন্য আনছারকে বেশ কৌশলে গ্রেফতার করেন কেরানীগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
সে সময় আনছারের সঙ্গে আমীরকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর সময় পুলিশ আমীরের পায়ে কয়েকটি গুলি করে। এরপর ‘ল্যাংড়া আমীর’ নামেই এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি।
তৎকালীন কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই অভিযানের অস্ত্র উদ্ধারের সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মারা যান আনছার। কিন্তু সেই একে-৪৭ রাইছেল টি থেকে যায় ভাগনে আলামিনের কাছে। পরবর্তী সময়ে জেল থেকে বেরিয়ে আরো ভয়ংকর হয়ে যান ল্যংড়া আমীর।
আলামিনকে সঙ্গে নিয়ে কেরানীগঞ্জের নামকরা সন্ত্রাসীদের এক জন হয়ে ওঠেন আমীর।
বর্তমানে তার নামে বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। শুধু কেরানীগঞ্জ থানায় ৩টি হত্যা, ২টি অস্ত্র, ৩টি চাঁদাবাজি ও ১টি গাড়ি ছিনতাই এর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছর সাজা হলে ফেরার ছিলেন তিনি। গত জানুয়ারি মাসে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়, প্রায় ৮ মাস জেলে থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হন গত সেন্টেম্বরের শেষ দিকে। আর এ জন্য কেরানীগঞ্জ এলাকার আমিনুল হক ওরফে মোল্লাহ জুযেল নামে অপর এক সন্ত্রাসী তাকে সহযোগিতা করেন।
গত ১১ নভেস্বর শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার বিমল মণ্ডল এর স্ত্রী, কন্যা, ড্রাইভারকে গুলি করে ছয় বছরের শিশু পরাগকে অপহরণ করেন আমীর আর আলামিন। অপহরণের ৩ দিন পর ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ফেরৎ দেন পরাগকে।
বুধবার অপহরণে জড়িত র্যাবের হাতে গ্রেফতার হঙয়া ৬ অপহরণকারী কিভাবে পরাগকে অপহরণ করা হয় তার বর্ণনা দেয় সাংবাদিকদের কাছে। মূল পরিকল্পনাকারী ল্যাংড়া আমীরই টাকার জন্য গুলি করে শিশু পরাগকে অপহরণ করেন বলে দাবী করেন আটক হওয়া ৬ ব্যক্তি।
আমীরের গ্রেফতার প্রসঙ্গে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান কর্নেল জিয়া উল আহসান জানান, যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন আমির হোসেন।এ জন্য র্যাবের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন