মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা একদিনেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬তে।
বুধবারও নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছিল চারজন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুটি শহরে কারফিউ জারির পরও সহিংসতা থামানো যায়নি।
তবে নিহতদের মধ্যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি বা এত মানুষ কীভাবে নিহত হলো, সেটি জানা যায়নি।
খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাথা টাউঙ শহরে সহিংসতা শুরুর পর তা কায়ুক টো শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সহিংসতার সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।
মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতার সময় এ পর্যন্ত শত শত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
গত মে মাসে একজন বৌদ্ধ নারীকে কয়েকজন মুসলমান ধর্ষণ করেছে, এ অভিযোগে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। তারপর থেকেই সেখানে উত্তেজনা রয়েছে।
কিন্তু এবারের সহিংসতা কেন, সেটি পরিষ্কার নয়। বিবিসির ডেভিড লয়েন বলছেন, এ সহিংসতা তার কাছে জাতিগত নির্মূলের মতো বিষয় বলেই মনে হচ্ছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ডেভিড লয়েন জানান, প্রথম দফা সহিংসতা যখন শুরু হয়, তখন থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সে দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বর্ণনা করে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বার্মার এ দাবিকে বরাবরই খারিজ করে দিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের মতে, রোহিঙ্গারা হচ্ছে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় ভাষাগত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যারা নিগ্রহের শিকার।সূত্র: বিবিসি।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন