নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নাম উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘একজন নাগরিকের চোখ তুলে নেওয়ার কথা যিনি প্রকাশ্যে বলতে পারেন, তিনিই সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন’। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানবন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হব, যদি প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে বলেন, তুমি এটা কেন করেছ। আমার জানতে ইচ্ছে করে, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কী বলেছেন। ওয়েল ডান বলেছেন, না আর করো না বলেছেন।’ একজন সম্মানিত নাগরিকের চোখ উপড়ে ফেলা স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে শাজাহান খান শারীরিরকভাবে আক্রমণের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
শাজাহান খানের অসহিষ্ণু আচরণের ব্যাপারে অভিযোগ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে এ সরকারের স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণ ও ধৈর্য্যহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
মানববন্ধনে বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় অশালীনতা বেশি প্রকাশ হচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাংবাদিক এবিএম মূসা, আইনজীবী রফিক-উল হক এবং যারা টক শো-তে যান, তাঁদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, সে হিসেবে শাজাহান খান একটু বাড়িয়ে চোখ তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন। টেলিভিশনের একটি টক শোতে যাঁরা এ ধরনের কথা বলেন, তাঁদের ক্ষমা করাই যথেষ্ট হবে না, এ সরকারের পতন আনতে হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অশালীনতা থেকে মুক্তি চায়।
এদিকে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানকে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির নায়ক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, শাজাহান খান ও তাঁর সন্তানদের ডিএনএ টেস্ট করলে চাঁদাবাজির গন্ধ পাওয়া যাবে।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মিয়াকে নিরীহ ভদ্রলোক পেয়ে পার পেয়েছেন। আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করেছেন। ওই অনুষ্ঠানে আমার যাওয়ার কথা ছিল। অসুস্থতার কারণে আমি যেতে পারিনি। এর জবাব আপনি পাবেন’।
পল্লবী থানার বিএনপির নেতা রুহুল আমিন মাস্টারের সভাপতিত্বে ওই মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও আবদুস সালাম।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন