সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পন্ন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য (মোটিভ)
উন্মোচন ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সরকারকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা
বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিকনেতারা। তা না হলে ২৫ নভেম্বর ঢাকায় সাংবাদিকদের
মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।সোমবার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
একই সঙ্গে ৮ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সকাল ১১টায় আরেকটি সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি। এতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতনের দাবি, চাকরিচ্যুতি বন্ধ করা এবং যারা এরই মধ্যে চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের পাওনা আদায়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তদন্ত এখনো চলছে। কিন্তু তদন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। তদন্তের একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে। সাগর-রুনির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিয়েছি যে, তাদের হত্যার বিচার করব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো ``জজমিয়া নাটক`` হবে না। আমরাও এমনটিই দেখতে চাই।”
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন ঠিকই, কিন্তু তার এ বক্তব্যে অস্পষ্টতা কাটেনি, রহস্যের জট খোলেনি। পেশাদার খুনিরা একাজ করেছে বলে মন্ত্রী বলেছেন। কিন্তু আমরা বলতে চাই পেশাদার খুনি তো নিজেদের তাগিদে খুন করেনি। কেউ তাদের ভাড়া করেছিলেন। কার হুকুমে তারা একাজ করেছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। খুনের মোটিভ বের করে প্রকৃত খুনিদের বিচার করতে হবে। আমরা এসংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্ট বলতে চাই, যতদিন এ খুনের বিচার না হবে ততদিন সাংবাদিকদের এ আন্দোলন চলবে।”
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় মিলে যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি হয়েছে সেখানে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নাম চাওয়া হয়েছে। ওই কমিটি এ পর্যন্ত যত সাংবাদিক হত্যা হয়েছে তার বিচার মনিটরিং করবে।``
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও সকল সাংসদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সাংবাদিকদের এই সম্মিলিত আন্দোলন সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি দিয়ে শুরু হলেও এটি এখন একটি সার্বিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।”
ইকবাল সোবহান চৌধুরী আরো বলেন, “হুমায়ুন কবির বালু, শামছুর রহমান, দীপঙ্কর চক্রবর্তী, মানিক সাহা, গৌতম দাসসহ সব সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। আমরা নিরাপত্তার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা চাই। আমরা সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবি জানাই।`` তিনি বলেন, লিমনের ওপরে যে অনাচার হয়েছে আমরা তারও প্রতিবাদ করেছি। আমরা চাই সারা দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হোক।”
আরেক সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী বলেন, “দীর্ঘ আট মাস ধরে সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। এ সময়ের মধ্যে আমরা নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। আজ আমাদের মহাসমাবেশ করার কথা থাকলেও গত ৯ অক্টোবর তদন্ত চলছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আজ আমরা মহাসমাবেশ করছি না।”
তিনি নাম উল্লেখ না করে গোয়েন্দা সংস্থার উদ্দেশে বলেন, “আমরা কারো নির্দেশনায় চলি না। আমাদের ভয়ভীতি দিয়ে কোনো কাজ হবে না। কোনো সংস্থার মাধ্যমে টেলিফোন করিয়ে এ আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।”

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন