রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কে বা
কারা একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে
গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আধঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষের
সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।নেত্রকোনায় সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগে বিকেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে এ সংঘর্ষ বাধে।
আজ নেত্রকোনার মোক্তারপাড়ায় মহুয়া মিলনায়তনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের কর্মী সমাবেশ ছিল। এ অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একই স্থানে ছাত্র ও যুব সমাবেশ আহ্বান করে শহরে মাইকিং করে। একপর্যায়ে তারা বিএনপির সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করে। ফলে প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে।
এরপর বিএনপি আজ পৌরসভার পারলা এলাকায় কর্মী সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সেখানেও বিএনপির সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সোয়া চারটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করার প্রস্তুতি নেয় ছাত্রদল। এ সময় সহস্রাধিক নেতা-কর্মী জড়ো হন। তখন যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বক্তৃতা শুরু করেন। এর মধ্যে কে বা কারা বিএনপি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পরই ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পুলিশ এ সময় নজরুল ইবনে আজম নামের এক যুবককে আটক করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছেন বলে জানান।
পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ চলছিল। আমরা সমাবেশের নিরাপত্তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।’

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন