রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ চলেছে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া। ছাত্রলীগ ও
ছাত্রশিবিরের মধ্যে বেলা ১১ টার দিকে চলা সংঘর্ষে ৫০ টিরও বেশি গুলি ছোড়া
হয়। গুলিবিদ্ধ হন তিনজন ও আহত হন ২৫ জন। তাদের মধ্যে কুপিয়ে আহত করা হয়
দুজনকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতেই পিস্তলে গুলি ভরতে দেখা
যায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের। অবাধে গুলি ছুঁড়তেও দেখা গেছে তাদের। আর
এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল পাশেই। শুধু গুলি নয় পিস্তল, রামদা, দা,
হকিস্টিক, চাপাতি হাতে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা রীতিমত যেন অস্ত্রের মহড়া
দিয়েছে ক্যাম্পাসে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির দাবি করেছেন সংঘর্ষে
তাদের ছয়জন গুলিবিদ্ধ এবং ৫০ জন আহত হয়েছে।
সংঘর্ষের পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে লাঞ্ছিত করে এবং দুটি বাস ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির ঢুকছে অথচ প্রশাসন তাদের বাধা দিচ্ছে না এই অভিযোগ তুলে তারা প্রক্টর মোহাম্মদ জাকারিয়ার জামার কলার ধরে উপাচার্যের বাসভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এরপর তারা উপাচার্যে বাসভবনে হামলা চালিয়ে কিছু চেয়ার ও উপাচার্যের নামফলক ভাঙচুর করে এবং বাসভবনের কলাপসিবল গেটের লাথি মারে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে সবকিছু ঘটলেও এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোন নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জাহাঙ্গীর, শরীফুল, মোবারক ও মোসাদ্দেককে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে। এই চারজনসহ এ ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভাষা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নবিউল ইসলাম ওরফে লিপন, লোক সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাস্টার্স শেষবর্ষের ছাত্র শরীফুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আহত অবস্থায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আখেরুজ্জামান তাকিম, আইন ও বিচার তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভকে আট নম্বর ওয়ার্ডে এবং ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষের ছাত্র মোসাদ্দেক হোসেনকে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সৌরভ চিকিত্সা নিয়ে পরে চলে গেছে। আহতদের মধ্যে অন্যেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিত্সা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা ১১ টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জমা হন। অপরদিকে ছাত্রলীগ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে জড়ো হয়। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা খণ্ড খণ্ড হয়ে গ্রন্থাগারের দিকে গেলে শিবির কর্মীরা তাদের উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে ছাত্রশিবির ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক ও বিজ্ঞান ভবনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও প্রধান ফটকের সামনে প্রায় অর্ধশত রাউন্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় ছাত্রলীগের কর্মীদের পুলিশের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে পিস্তলে গুলি ভরতে দেখা গেছে। ।
এদিকে শিবিরের কিছু কর্মী গ্রন্থাগারের ভেতরে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করে। ছাত্রলীগ শিবিরকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় ৩০ মিনিট রাস্তার যান চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে প্রশাসন ভবনের সামনে দাঁড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি বাস ভাঙচুর করে। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করে।
সংঘর্ষ চলাকালে আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন, এসএম হলের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, শিবির কর্মী আইন ও বিচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন, ইসলামিক স্টাডিজ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম হোসেন, সমাজ বিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জহিরুল হক ও ইসলামের ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিত্সা নিয়েছেন। পরে এখান থেকে আখেরুজ্জামান ও নবিউল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে নবিউল ইসলামের বাম বা কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আখেরুজ্জামানের ডান হাত মাথায় জখম হয়েছে। তাকে আট নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দিকে বেলা আড়াইটার দিকে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে পুলিশ আটক করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এরা হচ্ছেন জাহাঙ্গীর (২৩) ও শরীফুল (২৫)।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় প্লাটুন পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আটককৃতদের সহিংসতার ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
ছাত্রলীগের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আহমদ আলী দাবি করেছেন, ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে তাদের দখলদারিত্ব পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছাত্রলীগের ওপরে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, তারা ক্যাম্পাসে ফারুক হত্যার মতো নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা ছাত্রলীগের ওপরে গুলি চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন শিবিরের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা আখেরুজ্জামান, তৌহিদ আল তুহিন ও নিপুন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বলেন, এর আগে থেকেই তারা প্রক্টরকে বলে আসছেন বাসে করে ছাত্রশিবিরের বহিরাগতরা ব্যাগ ভর্তি করে ইট ও পাথর নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকছে। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অভিযান চালিয়ে ইট পাথরের ব্যাগ পাওয়া গেছে। প্রক্টর তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার করলে শিবির এই হামলা চালাতে পারত না। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে ফারুক হত্যার আসামিরা এভাবে ক্যাম্পাসে এসে হামলা করেছে। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির পাইপগান দিয়ে তাদের ওপরে গুলি করেছে।
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আশরাফুল আলম ওরফে ইমন মুঠোফোনে জানান, তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপরে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলা আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারিসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তাদের বাইরে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এ হামলায় তাদের অন্তত ৫০জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এ হামলার পেছনে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রশাসন যদি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাহলে প্রতিহত নয়, শিবির প্রতিরোধ করবে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে উপ উপাচার্য মুহম্মদ নূরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত। এ ঘটনার কারণে ভর্তি পরীক্ষার ওপরে কোনো প্রভাব পড়বে না। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি ভর্তি পরীক্ষা হবে।
সংঘর্ষের পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে লাঞ্ছিত করে এবং দুটি বাস ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির ঢুকছে অথচ প্রশাসন তাদের বাধা দিচ্ছে না এই অভিযোগ তুলে তারা প্রক্টর মোহাম্মদ জাকারিয়ার জামার কলার ধরে উপাচার্যের বাসভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এরপর তারা উপাচার্যে বাসভবনে হামলা চালিয়ে কিছু চেয়ার ও উপাচার্যের নামফলক ভাঙচুর করে এবং বাসভবনের কলাপসিবল গেটের লাথি মারে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে সবকিছু ঘটলেও এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোন নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জাহাঙ্গীর, শরীফুল, মোবারক ও মোসাদ্দেককে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে। এই চারজনসহ এ ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভাষা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নবিউল ইসলাম ওরফে লিপন, লোক সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাস্টার্স শেষবর্ষের ছাত্র শরীফুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আহত অবস্থায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আখেরুজ্জামান তাকিম, আইন ও বিচার তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভকে আট নম্বর ওয়ার্ডে এবং ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষের ছাত্র মোসাদ্দেক হোসেনকে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সৌরভ চিকিত্সা নিয়ে পরে চলে গেছে। আহতদের মধ্যে অন্যেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিত্সা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা ১১ টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জমা হন। অপরদিকে ছাত্রলীগ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে জড়ো হয়। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা খণ্ড খণ্ড হয়ে গ্রন্থাগারের দিকে গেলে শিবির কর্মীরা তাদের উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে ছাত্রশিবির ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক ও বিজ্ঞান ভবনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও প্রধান ফটকের সামনে প্রায় অর্ধশত রাউন্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় ছাত্রলীগের কর্মীদের পুলিশের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে পিস্তলে গুলি ভরতে দেখা গেছে। ।
এদিকে শিবিরের কিছু কর্মী গ্রন্থাগারের ভেতরে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করে। ছাত্রলীগ শিবিরকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় ৩০ মিনিট রাস্তার যান চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে প্রশাসন ভবনের সামনে দাঁড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি বাস ভাঙচুর করে। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করে।
সংঘর্ষ চলাকালে আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন, এসএম হলের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, শিবির কর্মী আইন ও বিচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন, ইসলামিক স্টাডিজ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম হোসেন, সমাজ বিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জহিরুল হক ও ইসলামের ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিত্সা নিয়েছেন। পরে এখান থেকে আখেরুজ্জামান ও নবিউল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে নবিউল ইসলামের বাম বা কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আখেরুজ্জামানের ডান হাত মাথায় জখম হয়েছে। তাকে আট নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দিকে বেলা আড়াইটার দিকে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে পুলিশ আটক করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এরা হচ্ছেন জাহাঙ্গীর (২৩) ও শরীফুল (২৫)।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় প্লাটুন পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আটককৃতদের সহিংসতার ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
ছাত্রলীগের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আহমদ আলী দাবি করেছেন, ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে তাদের দখলদারিত্ব পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছাত্রলীগের ওপরে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, তারা ক্যাম্পাসে ফারুক হত্যার মতো নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা ছাত্রলীগের ওপরে গুলি চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন শিবিরের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা আখেরুজ্জামান, তৌহিদ আল তুহিন ও নিপুন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বলেন, এর আগে থেকেই তারা প্রক্টরকে বলে আসছেন বাসে করে ছাত্রশিবিরের বহিরাগতরা ব্যাগ ভর্তি করে ইট ও পাথর নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকছে। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অভিযান চালিয়ে ইট পাথরের ব্যাগ পাওয়া গেছে। প্রক্টর তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার করলে শিবির এই হামলা চালাতে পারত না। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে ফারুক হত্যার আসামিরা এভাবে ক্যাম্পাসে এসে হামলা করেছে। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির পাইপগান দিয়ে তাদের ওপরে গুলি করেছে।
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আশরাফুল আলম ওরফে ইমন মুঠোফোনে জানান, তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপরে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলা আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারিসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তাদের বাইরে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এ হামলায় তাদের অন্তত ৫০জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এ হামলার পেছনে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রশাসন যদি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাহলে প্রতিহত নয়, শিবির প্রতিরোধ করবে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে উপ উপাচার্য মুহম্মদ নূরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত। এ ঘটনার কারণে ভর্তি পরীক্ষার ওপরে কোনো প্রভাব পড়বে না। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি ভর্তি পরীক্ষা হবে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন