সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর ও সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী পলাশ রুদ্র পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী এ আদেশ দেন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) আজ দুপুরে এ দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন জানায়। একই সঙ্গে চিকিত্সক নারায়ণ চন্দ্র দত্তের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা চার আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়।
সাংবাদিক দম্পতি হত্যার প্রায় আট মাস পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মামলার তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি জানান, এ হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন আটজনকে শনাক্ত করে তাঁদের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যজন সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গ্রেপ্তার হওয়া সাতজন হলেন: রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, তানভীর ও পলাশ রুদ্র পাল। প্রথম পাঁচজন গত আগস্টে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিত্সক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। আর তানভীর সাংবাদিক দম্পতির ‘পারিবারিক বন্ধু’ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।
শুরু থেকে মামলাটির তদন্ত করছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। লাশ উদ্ধারের পর ডিবি দুই নিরাপত্তাকর্মী হুমায়ুন কবীর ও পলাশ রুদ্র এবং কথিত বন্ধু তানভীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকজন পেশাদার গ্রিলকাটা চোরকেও তখন সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। গত ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি তদন্তে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নেয়। তারপর আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। এরপর ২৬ এপ্রিল ভিসেরা আলামতের জন্য সাগর-রুনির লাশ আজিমপুর কবরস্থান থেকে তোলা হয়। ভিসেরা পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত মেলেনি।
র্যাব গত জুনের শুরুর দিকে সাগর ও রুনিকে হত্যায় ব্যবহূত একটি ছুরি, একটি ছুরির বাঁট, সাগরের মোজা, একটি কম্বল, সাগরের পরনের প্যান্ট, রুনির পরনের প্যান্ট ও অন্যান্য কাপড় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ (ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরীক্ষাগারে পাঠায়। গত ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাঠানো হয় যে কাপড় দিয়ে সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল সেই কাপড় ও রুনির টি-শার্ট ।
এ ছাড়া গত আগস্টে চিকিত্সক নায়ারণ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে র্যাব গণমাধ্যমকে জানায়, রুনির টি-শার্ট থেকে একজন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ বৃত্তান্ত পাওয়া গেছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন