নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বরখাস্ত জিএম ইউসুফ আলী মৃধা, নিয়োগ কমিটির আহবায়ক হাফিজুর রহমান এবং সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা দায়ের করতে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা এসএম রাশেদুর রহমান রোববার চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। রাশেদুর রহমান বার্তা২৪ ডটনেটকে জানিয়েছেন, সোমবার বন্দরনগরীর কোতয়ালী থানায় এ মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সমাপ্ত প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই তিনজনের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে আরো তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের তালিকায় পূর্বাঞ্চল রেলের ২৫ কর্মকর্তাসহ পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে মামলায় অভিযোগ করা হবে, পূর্বাঞ্চল রেলের ৬টি ক্যাটাগরির ১০৬৯টির বেশিরভাগ পদেই মোটা অর্থের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় ৩৯ জনের বক্তব্য শেষে গত সপ্তাহে ছয়টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের বিপরীতে ছয়টি মামলা সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। কমিশন নিয়মিত বৈঠকে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাতে পদত্যাগী রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বরখাস্তকৃত এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এসময় ফারুকের সঙ্গে ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এই সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও রেল পুলিশের কমান্ড্যান্ট (ঢাকা) এনামুল হক।
অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন ঘটনা তদন্তে উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যান রেলের পূর্বাঞ্চল অফিসে। সেখান থেকে জব্দ করা নথিপত্রে দেখা যায়, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস পদে ১২১৬ কোড নাম্বারধারী লিখিত পরীক্ষায় পেয়েছেন মাত্র ২ নাম্বার। তা পরিবর্তন করে ২৫ নাম্বার দেখিয়ে এ কোড নাম্বারধারীকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।
৩৫টির বেশি কোড নাম্বারের খাতায় কাটাছেড়া করে নাম্বার দেয়া হয়েছে। টেবুলেশন শিটে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে এরকম অসংখ্য অকৃতকার্যকে দেখানো হয়েছে কৃতকার্য।
সুইপার থেকে রেলের লোক মাস্টার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন। ওই টাকা পার্সেন্টিজের ভিত্তিতে ভাগবাটোয়রা করে নিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
সবচেয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে ১১২ জন চৌকিদার, ৩৬৯ জন ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ২৪৮ জন সুইপার, ১৪৩ জন ট্রলি ম্যান, ১৫ জন সহকারি সাব ইন্সপেক্টর ও ১৮২ জন লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে।
সহকারি সাব-ইন্সপেক্টর পদে লিখিত পরীক্ষায় ৯৫ জনের মধ্যে ৭ জন মাত্র মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১১ জনকে। এর মধ্যে ৬ জনই মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১০, ময়মনসিংহের-১, কিশোরগঞ্জের-২৫, পটুয়াখালির-১৮, রংপুর-৩৩, মাদারীপুরের-২৬ রোলনম্বরধারী প্রার্থীরা পরীক্ষা উত্তীর্ণ না হয়েও নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ নিয়োগের জন্য উপযুক্ত থাকার পরও টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছেন চট্টগ্রাম-৬০ ও কুমিল্লার-৫০ রোল নাম্বারধারী। একই রকম পরিস্থিতির শিকার আরও অনেক প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া রেলওয়ের কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তান সন্ততি, মহিলা, অনগ্রসর জেলা, আনসার-ভিডিপি, উপজাতীয়, এতিম প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরনের কোটার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার প্রমাণ পেয়েছে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার।
রেলে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে রেলের কর্মকর্তারা ছাড়াও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন থেকে শুরু করে মৌখিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
স্বাক্ষীদের বক্তব্য এবং অনুসন্ধানের বের হয়ে আসা তথ্যপ্রমাণের আলোকে ছয়টি মামলার অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুদক কর্মকর্তারা মামলাগুলো তদন্ত করবেন।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সমাপ্ত প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই তিনজনের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে আরো তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের তালিকায় পূর্বাঞ্চল রেলের ২৫ কর্মকর্তাসহ পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে মামলায় অভিযোগ করা হবে, পূর্বাঞ্চল রেলের ৬টি ক্যাটাগরির ১০৬৯টির বেশিরভাগ পদেই মোটা অর্থের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় ৩৯ জনের বক্তব্য শেষে গত সপ্তাহে ছয়টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের বিপরীতে ছয়টি মামলা সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। কমিশন নিয়মিত বৈঠকে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাতে পদত্যাগী রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বরখাস্তকৃত এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এসময় ফারুকের সঙ্গে ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এই সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও রেল পুলিশের কমান্ড্যান্ট (ঢাকা) এনামুল হক।
অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন ঘটনা তদন্তে উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যান রেলের পূর্বাঞ্চল অফিসে। সেখান থেকে জব্দ করা নথিপত্রে দেখা যায়, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস পদে ১২১৬ কোড নাম্বারধারী লিখিত পরীক্ষায় পেয়েছেন মাত্র ২ নাম্বার। তা পরিবর্তন করে ২৫ নাম্বার দেখিয়ে এ কোড নাম্বারধারীকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।
৩৫টির বেশি কোড নাম্বারের খাতায় কাটাছেড়া করে নাম্বার দেয়া হয়েছে। টেবুলেশন শিটে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে এরকম অসংখ্য অকৃতকার্যকে দেখানো হয়েছে কৃতকার্য।
সুইপার থেকে রেলের লোক মাস্টার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন। ওই টাকা পার্সেন্টিজের ভিত্তিতে ভাগবাটোয়রা করে নিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
সবচেয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে ১১২ জন চৌকিদার, ৩৬৯ জন ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ২৪৮ জন সুইপার, ১৪৩ জন ট্রলি ম্যান, ১৫ জন সহকারি সাব ইন্সপেক্টর ও ১৮২ জন লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে।
সহকারি সাব-ইন্সপেক্টর পদে লিখিত পরীক্ষায় ৯৫ জনের মধ্যে ৭ জন মাত্র মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১১ জনকে। এর মধ্যে ৬ জনই মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১০, ময়মনসিংহের-১, কিশোরগঞ্জের-২৫, পটুয়াখালির-১৮, রংপুর-৩৩, মাদারীপুরের-২৬ রোলনম্বরধারী প্রার্থীরা পরীক্ষা উত্তীর্ণ না হয়েও নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ নিয়োগের জন্য উপযুক্ত থাকার পরও টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছেন চট্টগ্রাম-৬০ ও কুমিল্লার-৫০ রোল নাম্বারধারী। একই রকম পরিস্থিতির শিকার আরও অনেক প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া রেলওয়ের কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তান সন্ততি, মহিলা, অনগ্রসর জেলা, আনসার-ভিডিপি, উপজাতীয়, এতিম প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরনের কোটার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার প্রমাণ পেয়েছে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার।
রেলে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে রেলের কর্মকর্তারা ছাড়াও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন থেকে শুরু করে মৌখিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
স্বাক্ষীদের বক্তব্য এবং অনুসন্ধানের বের হয়ে আসা তথ্যপ্রমাণের আলোকে ছয়টি মামলার অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুদক কর্মকর্তারা মামলাগুলো তদন্ত করবেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন