পরম স্রদ্ধেয় এবং বর্তমান মিডিয়া জগতের অনেক শিক্ষকের শিক্ষক বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউস সামাদ আর নেই। আজ বুধবার রাত নয়টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
আতাউস সামাদের ছেলে আশিকুস সামাদ জানান, তাঁকে কোথায় দাফন করা হবে, তা পারিবারিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ সারারাত তাঁর মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার আতাউস সামাদের পায়ে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল।
‘দৈনিক আমার দেশ’-এর উপদেষ্টা সম্পাদক ও কলামিস্ট আতাউস সামাদ বেশ কিছুদিন ধরে হূদযন্ত্র ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। এর সঙ্গে ছিল ডায়াবেটিস। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে ঝুঁকি থাকায় ওই সিদ্ধান্ত নেননি।
আতাউস সামাদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আবদুস সামাদকে দেখতে আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি রাত নয়টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।
অ্যাপোলো হাসপাতালে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ প্রায় সব ধরনের গণ-আন্দোলনে লেখনীর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন আতাউস সামাদ। তাঁর মৃত্যু আমাদের দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, শিক্ষাবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, বিএনপির নেতা বরকতউল্লা বুলু, এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী, ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ নবীন ও প্রবীণ সাংবাদিকেরা হাসপাতালে উপস্থিত হন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকটি নামীদামি সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক।
আতাউস সামাদ সর্বশেষ দৈনিক আমার দেশ-এর উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি ‘সাপ্তাহিক এখন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় বিবিসির সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। পরে কিছুকাল বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।
১৯৩৭ সালের ১৬ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন আতাউস সামাদ। তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি তত্কালীন পাকিস্তান অবজারভারের প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ ও ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জেনারেল এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনের সময় তাঁর সাহসী সাংবাদিকতা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বিবিসিতে তাঁর নির্ভীক রিপোর্টিংয়ের জন্য সামরিক সরকারের আমলে কারাবরণ করেন এই প্রথিতযশা সাংবাদিক।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন