গত ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-চেষ্টার সঙ্গে জড়িত প্রবাসী ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ বর্তমানে থাইল্যান্ডে আছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির সভার কার্যপত্রে এ কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ইশরাকসহ অভ্যুত্থান-চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনীর মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হককে খুঁজে বের করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি সেনাবাহিনীর একটি দল পর্যবেক্ষণ করছে বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে।
সভা শেষে সংসদীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর কাদের কোরাইশী প্রথম আলোকে বলেন, ইশরাক আহমেদ ও জিয়াউল হককে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে কমিটি সুপারিশ করেছে।
কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে, গত ৪ এপ্রিল সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার সুপারিশ অনুসারে ইশরাক আহমেদকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে বেসামরিক আদালতে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খসড়া এজাহার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পলাতক মেজর জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ১৮ মার্চ পুলিশ ও র্যাব সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে সমুদ্রপথে চলাচল করতে না পারেন, সে জন্য বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্র এলাকা ও বন্দরগুলোতে নৌবাহিনীকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুজিবুল হক, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও মঞ্জুর কাদের কোরাইশী অংশ নেন। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জেড ইউ আহমদ ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মো ইনামুল বারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন