এনজিও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার বদলে বাংলাদেশে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও সরকারি সংস্থার দুর্নীতি তদন্তে কমিশন করা উচিৎ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডাম্স।
বাংলাদেশে কার্য্যক্রম পরিচালনারত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডর ওপর নজরদারি এবং এগুলোকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কমিশন গঠনে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় এ বক্তব্য দেন ব্রাড অ্যাডাম্স। এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।
হিউম্যান রাইট্স ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে যে বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওগুলোর কার্যক্রম জোরদার হওয়ার বদলে তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।
এ ব্যাপারে এইচআরডব্লিউ’র পক্ষে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ওই দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশে বলা হয়েছে, এনজিও সেক্টর যাতে সরকারের অহেতুক হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে ব্যাপারে তারা যেন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এইচআরডব্লিউ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার গত আগস্টের ২৫ তারিখে দেওয়া ঘোষণায় জানায় যে তারা এনজিওদের কর্মকাণ্ড নজরদারি করার জন্য একটি কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে। দাবি করা হয় যে এদের মধ্যে অনেকগুলোই সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
একই দিন তারা ঘোষণা করে যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৬ হাজার এনজিও’র নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সরকার একই অভিযোগে সন্দেহভাজন আরও অতিরিক্ত ৪ হাজার এনজিওএ’র কাগজপত্র যাচাই করে দেখছে বলেও জানানো হয়।
সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বহুত্ববাদের একমাত্র রক্ষাকারী হিসেবে নিজেকে দাবি করে থাকে। কিন্তু এনজিওদের ওপর তাদের সরকারের অহেতুক নজরদারির উদ্যোগ তাদের সে অবস্থানকে গুরুতর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।”
এইচআরডব্লিউ আরও উল্লেখ করে যে কোনো সন্ত্রাসী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন বাংলাদেশে আগে থেকেই আছে। কোনো এনজিও কিংবা এতে কর্মরত কেউ কোনো ধরণের অবৈধ কার্যক্রমে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান বাংলাদেশের বর্তমান ফৌজদারি আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, আয়কর আইন এবং অন্যান্য আইনে আগে থেকেই আছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রচলিত আইনগুলোর কথা উল্লেখ করে অ্যাডামস বলেন, “বাংলাদেশে এনজিওগুলো থেকে বাংলাদেশ সরকার ঠিক কি ধরণের সন্ত্রাসবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী হুমকি পাচ্ছে সে সম্পর্কেও সরকারের পক্ষে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তা ছাড়া এসব ঘটনায় জড়িত থাকলেও তাদের কেনো প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না এ ব্যাপারেও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে।”
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মূলত দেশের নাগরিক সমাজের ওপর রাজনৈতিক পেশিশক্তি প্রদর্শনের জন্য এটি একটি ধোয়াশা সৃষ্টির চেষ্টা।”
বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার এনজিও কাজ করছে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, এদেশে এনজিওরা দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য সেবাসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছে।
নিয়ন্ত্রক কমিশন গঠনের পাশাপাশি এনজিওগুলোর বিদেশ থেকে আসা সাহায্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য আরও বেশকিছু পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকারের প্রক্রিয়াধীন আছে বলে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
নতুন আইন অনুযায়ী এনজিওগুলোকে তাদের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে বিদেশ থেকে সাহায্য পেতে গেলে অনেকগুলো সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে।
সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে হিউম্যান রাইট্স ওয়াচের ব্রাড অ্যাডামস বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের কর্মকাণ্ডে এটাই মনে হচ্ছে যে তারা বাংলাদেশের এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। এর ফলে বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটির কর্মকাণ্ড অনুপ্রাণিত হওয়ার বদলে শুধুই বাধার সম্মুখীন হবে।”
অ্যাডামস আরও বলেন, “এনজিও কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন গঠনের বদলে সরকারের উচিত এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর দুর্নীতির তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা, যারা প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছে।”
বাংলাদেশে কার্য্যক্রম পরিচালনারত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডর ওপর নজরদারি এবং এগুলোকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কমিশন গঠনে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় এ বক্তব্য দেন ব্রাড অ্যাডাম্স। এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।
হিউম্যান রাইট্স ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে যে বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওগুলোর কার্যক্রম জোরদার হওয়ার বদলে তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।
এ ব্যাপারে এইচআরডব্লিউ’র পক্ষে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ওই দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশে বলা হয়েছে, এনজিও সেক্টর যাতে সরকারের অহেতুক হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে ব্যাপারে তারা যেন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এইচআরডব্লিউ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার গত আগস্টের ২৫ তারিখে দেওয়া ঘোষণায় জানায় যে তারা এনজিওদের কর্মকাণ্ড নজরদারি করার জন্য একটি কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে। দাবি করা হয় যে এদের মধ্যে অনেকগুলোই সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
একই দিন তারা ঘোষণা করে যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৬ হাজার এনজিও’র নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সরকার একই অভিযোগে সন্দেহভাজন আরও অতিরিক্ত ৪ হাজার এনজিওএ’র কাগজপত্র যাচাই করে দেখছে বলেও জানানো হয়।
সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বহুত্ববাদের একমাত্র রক্ষাকারী হিসেবে নিজেকে দাবি করে থাকে। কিন্তু এনজিওদের ওপর তাদের সরকারের অহেতুক নজরদারির উদ্যোগ তাদের সে অবস্থানকে গুরুতর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।”
এইচআরডব্লিউ আরও উল্লেখ করে যে কোনো সন্ত্রাসী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন বাংলাদেশে আগে থেকেই আছে। কোনো এনজিও কিংবা এতে কর্মরত কেউ কোনো ধরণের অবৈধ কার্যক্রমে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান বাংলাদেশের বর্তমান ফৌজদারি আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, আয়কর আইন এবং অন্যান্য আইনে আগে থেকেই আছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রচলিত আইনগুলোর কথা উল্লেখ করে অ্যাডামস বলেন, “বাংলাদেশে এনজিওগুলো থেকে বাংলাদেশ সরকার ঠিক কি ধরণের সন্ত্রাসবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী হুমকি পাচ্ছে সে সম্পর্কেও সরকারের পক্ষে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তা ছাড়া এসব ঘটনায় জড়িত থাকলেও তাদের কেনো প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না এ ব্যাপারেও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে।”
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মূলত দেশের নাগরিক সমাজের ওপর রাজনৈতিক পেশিশক্তি প্রদর্শনের জন্য এটি একটি ধোয়াশা সৃষ্টির চেষ্টা।”
বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার এনজিও কাজ করছে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, এদেশে এনজিওরা দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য সেবাসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছে।
নিয়ন্ত্রক কমিশন গঠনের পাশাপাশি এনজিওগুলোর বিদেশ থেকে আসা সাহায্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য আরও বেশকিছু পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকারের প্রক্রিয়াধীন আছে বলে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
নতুন আইন অনুযায়ী এনজিওগুলোকে তাদের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে বিদেশ থেকে সাহায্য পেতে গেলে অনেকগুলো সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে।
সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে হিউম্যান রাইট্স ওয়াচের ব্রাড অ্যাডামস বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের কর্মকাণ্ডে এটাই মনে হচ্ছে যে তারা বাংলাদেশের এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। এর ফলে বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটির কর্মকাণ্ড অনুপ্রাণিত হওয়ার বদলে শুধুই বাধার সম্মুখীন হবে।”
অ্যাডামস আরও বলেন, “এনজিও কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন গঠনের বদলে সরকারের উচিত এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর দুর্নীতির তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা, যারা প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছে।”


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন