নরসিংদীর জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হত্যা মামলায় বিচার প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকভাবে আসামীরা জামিন পেয়ে যাওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার শহরে বিক্ষোভে র্যাব ও পুলিশের হামলার পর রোববার ও সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ‘লোকমান সংগ্রাম পরিষদ’।
শুক্রবার রাতে পরিষদের এক বৈঠক থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বলা হয়, লোকমান হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে।
বিকালে লোকমান হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ বাধা দিলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হতে অস্বীকৃতি জানায়, সঙ্গে সঙ্গে র্যাব ও পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে বিক্ষোভকারীদের। এতে দুই সাংবাদিক ও পৌর মেয়রসহ ৬০ জন আহত হয়। আহতদের হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেল তিনটায় লোকমান সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে লোকমান হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মরহুম লোকমানের ভাই মেয়র কামরুল বিকালে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিলসহ শহরের শাপলা চত্বর থেকে সমাবেশ স্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মেয়র কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও র্যাব লাঠিচার্জ করে।
এ সময় কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা ইট-পাটকেল ছুড়ে মারলে পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ ৬০ জন আহত হয়।
পরে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা দুটি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে লোকমান সমর্থকদের সরাতে আবরো রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এ সময় সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ করে পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশসহ ৬০ জন আহত হয়।
এদিকে জনপ্রিয় পৌর মেয়র চাঞ্চল্যকর লোকমান হত্যা মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রভুক্ত সর্বশেষ আসামি- নরসিংদী শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফ সরকারও জামিন পেয়ে গেছেন গত ১৫ আগস্ট। এরপর থেকেই ক্ষোভ চূড়ান্ত আকারে দানা বাঁধতে শুরু করে শহরে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও নিহতের ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, জননন্দিত মেয়র লোকমান হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল আসামি কিভাবে একে একে জামিনে বেরিয়ে যায় তা আমার জানা নেই।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ নভেম্বর নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নরসিংদী পৌর সভার মেয়র লোকমানকে গুলি করে হত্যা করার পর তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, এপিএস মুরাদ, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভূইয়াসহ ১৪ জন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকে আসামি করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২৪ জুন এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন ওরফে মোবা, নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবে সহ-সভাপতি ও মামলার দুই নম্বর আসামি আবদুল মতিন সরকার, মতিন সরকারের ছোট ভাই শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফ সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে লোকমান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মণ্ডল। তবে আদালত এই সবাইকে জামিন দিয়েছেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন