সমমনা ১২টি ইসলামিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ইসলামিক দলগুলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবাদে আজ সকালে সমমনা ১২টি ইসলামিক দল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ বেধে যায়।বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রেসক্লাবের সামনে অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং পুলিশের গাড়িসহ চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে এক সাংবাদিকের মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইসলামি দলগুলোর অন্তত ২৫ জনকে আটক করে।
পুলিশের প্রিজন ভ্যানে থাকা বাংলাদেশ ইসলামিক খেলাফত আন্দোলনের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সরকার তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে এবং তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কাল রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দেন তারা।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার নুরুল ইসলাম জানান, আজকের সমাবেশের ওপর ঢাকা মহানগর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসলামিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেলও ছোড়ে। এতে পুলিশের অন্তত ৪০ জন সদস্য আহত হয়েছেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন