সরকারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ব ব্যাংকের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলটি
সোমবার বাংলাদেশে আসছে না। এমনকি শিগগিরই তাদের আসার সম্ভাবনা নেই। বিশ্ব
ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্রটি জানায়, সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ হওয়ায় আপতত সংস্থাটির প্রতিনিধি দল আসছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংক ফান্ড মিটিংয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। যাতে শিগিগিরই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। একই সঙ্গে পরবর্তী বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহরিন এ মাহবুব বলেন, প্রতিনিধি দলের আসার তারিখ পিছিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার বিশ্ব ব্যাংক ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসছে না। বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালক জেক স্টেইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা ছিলো।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জেষ্ঠ্য সচিব ইকবাল মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, সোমবার থেকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পদ্মা সেতু বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিলো অর্থমন্ত্রীর।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের উচ্চ মহল থেকে এখনো বিশ্ব ব্যাংক ও পদ্মা সেতু অর্থায়ন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি বেশ ক্ষুদ্ধ হয়েছে। এজন্য তারা ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করেছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিশ্ব ব্যাংকের একটি বিশেষ প্যানেলের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষ প্রতিনিধি দল দুদকের কাছে এখনো কোনো মেইল পাঠায়নি।”
বিশ্ব ব্যাংকের এই বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হবে। এই বিশেষজ্ঞ দল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের সঙ্গে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন বিশ্ব ব্যাংক সদর দফতরে জমা দেবেন। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২-১৪ অক্টোবর টোকিওতে ব্যাংকটির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ইআরডি সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ, অর্থসচিব ফজলে করিম এবং অতিরিক্ত সচিব আরস্তু খানের অংশ গ্রহণের কথা রয়েছে।
এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইআরডি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন। পদ্মা সেতুর ওপর একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেছেন। তবে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে এখনো সাক্ষাতের সময় সূচি পায়নি।
সূত্র জানায়, ব্যাংক ফান্ড মিটিংয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংস্থাটির শর্ত মেনে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি জানানো হবে। যাতে শিগগিরই অর্থায়ন কার্যক্রম শুরু করে।
এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পক্ষ থেকে আবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইআরডিকে চিঠি দিয়ে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে। এর আগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অন্যতম অর্থায়নকারী জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) নয়মাস সময় বাড়ায়।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন