বাংলারবার্তা২৪.কমঃ
মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে: আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে সে ভাষায় জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১৯ আগস্ট) উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।
এ সময় আওয়ামীলীগ নেতাদের উস্কানিমুলক বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথাও বলেন বিএনপি প্রধান।
খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ মনে করছে যে বিএনপি কঠো কর্মসূচি দেবে। সে সুযোগে তারা রাস্তায় মারামারি করে বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে মামলা ঠুকে দেবে, নেতা-কর্মীদের জেলে ভরবে। বিএনপি সে সুযোগ সরকারকে দেবে না।”
“বিএনপি হত্যা-গুমের রাজনীতি বিশ্বাস করে না” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনগণের জন্য বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে বিশ্বাস করে। জনগণের ক্ষমিত হয় এমন কর্মসূচি দিতে চায় না।”
“আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছি। এজন্য বিএনপিকে দুর্বল মনে করার কোন কারণ নেই” বলে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “স্বৈরাচারী এরশাদের সময় বিএনপি নেতাদের আটক করে জেলে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিলো। সারা দেশে বিএনপি এতো শক্তিশালী ছিলো না। তারপরও তখন স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো। এখন বিএনপি অনেক শক্তিশালী। সারাদেশে অসংখ্য নেতা-কর্মী ছড়িয়ে আছে। আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে, সে ভাষায়ই তাদের জবাব দেওয়া হবে।”
বিকেল পাঁচটা ৫১ মিনিটে খালেদা জিয়া নাট্যমঞ্চে পৌঁছুলে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানায়। তিনি হাত নেড়ে এর জবাব দেন।
পরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ মঞ্চে উপবিষ্ট ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের দলীয় পতাকা খচিত উত্তরীয় পড়িয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু করে প্রায় আধা ঘন্টা বক্তৃতা করেন তিনি।
“আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে তাতে বিএনপি অংশ নেবে।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু বিএনপি চায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করতে। আমাদের আমলে আলীগ ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিলো। আর গত চার বছরে বিএনপি মাত্র ১১ দিন হরতাল দিয়েছে।”
খালেদা জিয়া বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। নিদর্লীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগনের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।”
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিবেশি ভারতসহ বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারত একটি গনতান্ত্রিক দেশ তাদের উচিত গণতন্ত্রকে সহায়তা করা। তাই আমি আশা করব তারা একটি বিশেষ দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সর্ম্পক না রেখে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সর্ম্পক স্থাপন করবে। তাহলেই কেবল সমস্যার সমাধান হবে।”
বর্তমান সরকারকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেন, “দেশ আজ দুর্নীতিতে ভরে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যসহ মন্ত্রী এমপি সবাই দুর্নীতিতে জড়িত। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন শুরু হয় লুটপাট-দুর্নীতি। অতীতেও এদের দুর্নীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন বর্তমানে দেশের কি অবস্থা। এ সরকার গণতন্ত্রের নামে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করেছে। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সচল নেই। সংসদ একদলীয় ও অকার্যকর। তারা চায় দেশে কোনো বিরোধী দল থাকবে না, যারা জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলবে। এজন্যই বিরোধী দলকে কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকায় সমাবেশ করার মতো একমাত্র পল্টন ময়দানকেও সরকার নানাভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।”
প্রায় ২২ মিনিটের বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা দেশের আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী বলেন কারও বেডরুম পাহারা দিতে পারবেন না। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের চেয়ে ভাল। দেশে খুন-ছিনতাই হচ্ছে। আমার প্রশ্ন তাহলে তারা চোখ বন্ধ করে রাখেন, নাকি তারা উট পাখির মতো বালুতে চোখঁ গুজে আছেন।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় কখনও দেশের মানুষ ভাল ছিল না বর্তমানেও নেই।”
বিগত মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেন, “এটা কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিলো না। জনগণের ভোটে নয় এদের সঙ্গে আতাঁত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে।”
তিনি বলেন, “গান পাউডারে মানুষ পুড়িয়ে মেরে, লগি-বৈঠা দিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছিল। আমরা সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করেছিলাম। কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে। এতে বিএনপি দু’বার ও আওয়ামী লীগ একবার ক্ষমতায় এসেছে।”
বর্তমান সরকারকে দুর্বল ও ভীত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনগণের কাছে দেওয়া একটি ওয়াদাও এ সরকার পূরণ করতে পারেনি। তাই জনগণের কাছে যাওয়ার মতো তাদের সামনে কোনো পথ নেই। এজন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই সংবিধান সংশোধন করেছে। সংসদ রেখেই তারা আরেকটি সংসদ নির্বাচন করতে চায়। যা পৃথিবীর কোথাও নেই।”
গার্মেন্টস ও পোল্ট্রি শিল্পসহ দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “ আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য হলো দেশকে আশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা। কিন্তু যতদিন স্বাধীনতার ঘোষকের দল জাতীয়তাবাদী শক্তি বেচেঁ থাকবে তা কখনও সম্ভব হবে না।”
এর আগে জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
চলতি মাসের ১৯ আগস্ট কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালন করলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের বাইরে থাকায় বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
সংগঠনির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল এতে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর নাট্যমঞ্চের প্রাঙ্গন ছিলো বর্ণিল সাজে সজ্জিত। নাট্যমঞ্চের প্রবেশ দ্বারে শোভা পায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, নিঁখোজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ছবি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠটির পক্ষ থেকে সুভ্যেনির প্রকাশ করা হয়।
বিকেল সাড়ে চারটায় সভার শুরুতেই দেশের জাতীয় ব্যক্তি এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। তাদের আত্মার মাগফিরার কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মওলানা এমএ মালেক।
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল উপস্থিত সবার কাছে তার বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন শফিউল বারী বাবু।
খালেদা জিয়া ছাড়াও সভার মূল মঞ্চে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, এম কে আনোয়ার, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল ড. অলি আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।
এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহাজাহান ওমর, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এমএ মান্নান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানাউল্লাহ মিয়া, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির সহ: স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, শাইরুল কবীর খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হয়।
মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে: আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে সে ভাষায় জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১৯ আগস্ট) উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।
এ সময় আওয়ামীলীগ নেতাদের উস্কানিমুলক বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথাও বলেন বিএনপি প্রধান।
খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ মনে করছে যে বিএনপি কঠো কর্মসূচি দেবে। সে সুযোগে তারা রাস্তায় মারামারি করে বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে মামলা ঠুকে দেবে, নেতা-কর্মীদের জেলে ভরবে। বিএনপি সে সুযোগ সরকারকে দেবে না।”
“বিএনপি হত্যা-গুমের রাজনীতি বিশ্বাস করে না” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনগণের জন্য বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে বিশ্বাস করে। জনগণের ক্ষমিত হয় এমন কর্মসূচি দিতে চায় না।”
“আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছি। এজন্য বিএনপিকে দুর্বল মনে করার কোন কারণ নেই” বলে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “স্বৈরাচারী এরশাদের সময় বিএনপি নেতাদের আটক করে জেলে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিলো। সারা দেশে বিএনপি এতো শক্তিশালী ছিলো না। তারপরও তখন স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো। এখন বিএনপি অনেক শক্তিশালী। সারাদেশে অসংখ্য নেতা-কর্মী ছড়িয়ে আছে। আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে, সে ভাষায়ই তাদের জবাব দেওয়া হবে।”
বিকেল পাঁচটা ৫১ মিনিটে খালেদা জিয়া নাট্যমঞ্চে পৌঁছুলে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানায়। তিনি হাত নেড়ে এর জবাব দেন।
পরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ মঞ্চে উপবিষ্ট ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের দলীয় পতাকা খচিত উত্তরীয় পড়িয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু করে প্রায় আধা ঘন্টা বক্তৃতা করেন তিনি।
“আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে তাতে বিএনপি অংশ নেবে।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু বিএনপি চায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করতে। আমাদের আমলে আলীগ ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিলো। আর গত চার বছরে বিএনপি মাত্র ১১ দিন হরতাল দিয়েছে।”
খালেদা জিয়া বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। নিদর্লীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগনের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।”
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিবেশি ভারতসহ বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারত একটি গনতান্ত্রিক দেশ তাদের উচিত গণতন্ত্রকে সহায়তা করা। তাই আমি আশা করব তারা একটি বিশেষ দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সর্ম্পক না রেখে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সর্ম্পক স্থাপন করবে। তাহলেই কেবল সমস্যার সমাধান হবে।”
বর্তমান সরকারকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেন, “দেশ আজ দুর্নীতিতে ভরে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যসহ মন্ত্রী এমপি সবাই দুর্নীতিতে জড়িত। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন শুরু হয় লুটপাট-দুর্নীতি। অতীতেও এদের দুর্নীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন বর্তমানে দেশের কি অবস্থা। এ সরকার গণতন্ত্রের নামে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করেছে। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সচল নেই। সংসদ একদলীয় ও অকার্যকর। তারা চায় দেশে কোনো বিরোধী দল থাকবে না, যারা জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলবে। এজন্যই বিরোধী দলকে কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকায় সমাবেশ করার মতো একমাত্র পল্টন ময়দানকেও সরকার নানাভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।”
প্রায় ২২ মিনিটের বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা দেশের আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী বলেন কারও বেডরুম পাহারা দিতে পারবেন না। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের চেয়ে ভাল। দেশে খুন-ছিনতাই হচ্ছে। আমার প্রশ্ন তাহলে তারা চোখ বন্ধ করে রাখেন, নাকি তারা উট পাখির মতো বালুতে চোখঁ গুজে আছেন।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় কখনও দেশের মানুষ ভাল ছিল না বর্তমানেও নেই।”
বিগত মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেন, “এটা কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিলো না। জনগণের ভোটে নয় এদের সঙ্গে আতাঁত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে।”
তিনি বলেন, “গান পাউডারে মানুষ পুড়িয়ে মেরে, লগি-বৈঠা দিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছিল। আমরা সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করেছিলাম। কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে। এতে বিএনপি দু’বার ও আওয়ামী লীগ একবার ক্ষমতায় এসেছে।”
বর্তমান সরকারকে দুর্বল ও ভীত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনগণের কাছে দেওয়া একটি ওয়াদাও এ সরকার পূরণ করতে পারেনি। তাই জনগণের কাছে যাওয়ার মতো তাদের সামনে কোনো পথ নেই। এজন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই সংবিধান সংশোধন করেছে। সংসদ রেখেই তারা আরেকটি সংসদ নির্বাচন করতে চায়। যা পৃথিবীর কোথাও নেই।”
গার্মেন্টস ও পোল্ট্রি শিল্পসহ দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “ আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য হলো দেশকে আশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা। কিন্তু যতদিন স্বাধীনতার ঘোষকের দল জাতীয়তাবাদী শক্তি বেচেঁ থাকবে তা কখনও সম্ভব হবে না।”
এর আগে জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
চলতি মাসের ১৯ আগস্ট কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালন করলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের বাইরে থাকায় বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
সংগঠনির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল এতে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর নাট্যমঞ্চের প্রাঙ্গন ছিলো বর্ণিল সাজে সজ্জিত। নাট্যমঞ্চের প্রবেশ দ্বারে শোভা পায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, নিঁখোজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ছবি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠটির পক্ষ থেকে সুভ্যেনির প্রকাশ করা হয়।
বিকেল সাড়ে চারটায় সভার শুরুতেই দেশের জাতীয় ব্যক্তি এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। তাদের আত্মার মাগফিরার কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মওলানা এমএ মালেক।
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল উপস্থিত সবার কাছে তার বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন শফিউল বারী বাবু।
খালেদা জিয়া ছাড়াও সভার মূল মঞ্চে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, এম কে আনোয়ার, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল ড. অলি আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।
এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহাজাহান ওমর, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এমএ মান্নান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানাউল্লাহ মিয়া, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির সহ: স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, শাইরুল কবীর খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হয়।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন