বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর দলের নেতাদের গণতন্ত্রের ভাষায়
কথা বলার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজ সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের
ধানমন্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
মাহবুব উল আলম হানিফ এ আহ্বান জানান। হানিফ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিষদবর্গ উসকানিমূলক, ভিত্তিহীন, অশোভন, অরুচিকর বক্তব্য দিচ্ছে এবং অসত্ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য নির্লজ্জের মতো মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। তারা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে চায়।’
দিনাজপুরে গতকাল রোববার জনসভায় দেওয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হানিফ এসব কথা বলেন।
দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে গতকাল খালেদা জিয়া বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনাদের আত্মীয়স্বজনের কেউ আওয়ামী লীগ করলে তাঁদের প্রশ্রয় দেবেন না। দিলে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবেন।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেছিলেন, ‘১৯৯৬ সালে স্যার নিনিয়ান এসে এক মাস খেটে আলোচনা করে একটা পথ বের করেছিলেন। সেটা ছিল নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, একটা ছোট মন্ত্রিসভা হবে। তাতে বিএনপির পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের পাঁচজন থাকবেন। সেটা তখন আওয়ামী লীগ মানেনি। এখন কীভাবে তারা ছোট মন্ত্রিসভার সেই একই পদ্ধতির কথা বলে?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি, যে পদ্ধতি তখন তারা গ্রহণ করেনি, সে পদ্ধতি এখন চলতে পারে না।’ তিনি বলেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাঁর অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
খালেদা জিয়া জোটের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘যদি শান্তি চান, বেঁচে থাকতে চান, দেশের উন্নয়ন চান, এই চোরদের থেকে দেশকে রক্ষা করতে চান, তা হলে সামনে কঠিন কর্মসূচি দিয়ে যে ডাক দেব, তাতে শরিক হবেন।’
বিএনপির নেত্রী মহাজোট সরকারকে দুর্নীতিবাজ বলে যে কটাক্ষ করেছেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে হানিফ বলেন, ‘আমরা সবিনয়ে বেগম জিয়াকে জিজ্ঞেস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আপনি কীভাবে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করেছিলেন? আপনি কী করে অন্যকে দুর্নীতিবাজ বলেন? যাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এফবিআই অর্থপাচার মামলায় সাক্ষ্য দেয়, শুধু দেশেই নয় আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের আদালতেও যার ছেলেদের দুর্নীতির দায়ে বিচার হয়, তাঁরা কোন মুখে অন্যদের সম্পর্কে এমন প্রলাপ বকেন।’
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হানিফ বলেন, ‘আপনি বলছেন ১০ মাস সময় নষ্ট হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে রেখেছিল। আপনারা পরবর্তী পাঁচ বছর পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নিতে কী করেছেন? এখন মায়াকান্না করতে লজ্জা লাগে না? আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, সরকার ঠিক পথে আছে বলেই বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঋণচুক্তি বাতিলের পর পুনর্বহাল করা হয়েছে।’
খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘সরকার নাকে খত দিয়ে কানে ধরে ওঠবস করে বিশ্বব্যাংকের সব শর্ত মেনে নিয়েছে। ১০ মাস আগে দুর্নীতিবাজদের বরখাস্ত করলে এই অবস্থা হতো না।’ তিনি বলেছিলেন, ‘যখন পদ্মা সেতু হওয়ার আর কোনো উপায় নেই, তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, নিজেদের টাকায় করবেন, চান্দা ওঠাবেন। চান্দাবাজ সরকার কেবল চান্দাই ওঠাতে জানে। তারা চান্দা ওঠানো শুরু করল। এতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ—সব লীগের পোয়াবারো হলো। এমনকি বাচ্চাদের টিফিনের টাকাও নেন প্রধানমন্ত্রী।’
মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ধামাচাপা দেয় না। কোনো অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে। দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বিএনপি।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন