
পূর্বঘোষণা অনুসারে ভারতজুড়ে ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, খুচরা বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় আজ শুক্রবার ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূলের ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এএফপি, হিন্দুস্তান টাইমস।
বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাসভবনে তার হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়, নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সৌগত রায়, গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী শিশির অধিকারী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুদীপ ব্যানার্জী, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী চৌধুরী মোহন জাটুয়া এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুলতান আহমেদ। এর আগে তারা রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের দিল্লির বাসভবনে বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ তারা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির হাতে ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠি তুলে দেওয়া হয়।
লোকসভায় তৃণমূলের ১৯ সদস্য রয়েছে। গত মঙ্গলবার মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ইউপিএ জোট সরকার থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
এদিকে, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির মতো আঞ্চলিক দল সমর্থন দেওয়ায় টিকে গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার। আজ দল দুটি তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করে।
আজ সকালে মুলায়ম সিং যাদবের নেতৃত্বাধীন উত্তর প্রদেশের আঞ্চলিক দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ইউপিএ জোট সরকারের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। মুলায়ম সিং যাদব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের দলের ২১ জন এমপি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকারকে সমর্থন করে যাবে।
একই দিন উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টিও (বিএসপি) তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। বিএসপির ২২ জন এমপি সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে দলটির তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাত্ এ দু’দলের মোট ৪৩ জন এমপি সরকারকে সমর্থন করে যাবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল।
তৃণমূল কংগ্রেস ইউপিএ থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সরকারকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল ২১ জন এমপির সমর্থন। এসপি এবং বিএসপি সমর্থন দেওয়ায় প্রয়োজনীয় আসনের দ্বিগুণ সমর্থন পেল মনমোহন সরকার। কাজেই মমতা ব্যানার্জী বের হয়ে যাওয়াতে সরকারের টিকে থাকা না থাকা নিয়ে যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল এর অবসান ঘটল। বাইরে থেকে সমর্থন পাওয়ায় টিকে গেল মনমোহন সরকার।
জোট সরকারের দুই ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও পবন কুমার বনশাল আঞ্চলিক দু’দলের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন আর কেউ আমাদেরকে সংখ্যালঘু সরকার বলতে পারবে না। কারণ লোকসভায় আমাদের ২৭২টিরও বেশি আসন রয়েছে।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন