সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া আদালতের রায়কে অগ্রহণযোগ্য, পক্ষপাতদুষ্ট, বাতিলযোগ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার গুলশানে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আদালতের রায়ের ব্যাপারে বিএনপি ও ১৮ দলের জোটের অবস্থান তুলে ধরেন।
আদালতের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত রায়ের মধ্যে অসংগতি রয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, এই রায় বিচারিক অসদাচরণ। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, একজন বিচারক অবসর নিলে তিনি আর আদালতে বসতে পারেন না। একইভাবে রায়ে সই করতে পারেন না। কিন্তু সাবেক বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তা-ই করেছেন। তাই এই রায় অগ্রহণযোগ্য।
খালেদা জিয়া বলেন, গত ১০ মে আদালতে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, সেখানে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন বিচারপতিদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন নির্দলীয় সরকারের পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা। এমন গরমিল নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, হীন রাজনৈতিক স্বার্থে এমনটি করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, এ বি এম খায়রুল হকের রায়ে নির্বাচনের যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি। পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে এটি অসংগতিপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, আদালতের রায়ের এক অংশে বলা হয়েছে, অনির্বাচিত ব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন না। কিন্তু রায়ের অন্য অংশে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ৪২ দিন আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংসদ বহাল না থাকলে কেউ নির্বাচিত থাকেন না। তাহলে অনির্বাচিতরা কোন আইনে থাকবে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। এটি রায়ের অসংখ্য স্ববিরোধিতার একটি বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সংসদ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বলে চিহ্নিত করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে সাজানো নির্বাচনের চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিচারপতির রায়ে অনভিপ্রেত অবস্থার সৃষ্টি হবে। জনগণও এ রায় মেনে নেবে না।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন