হেলমেট পরায় বাধ্য করতে অভিনব কৌশল নিয়েছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বেরুলে ‘মামলা বা হেলমেট কিনতে বাধ্য’ করার কৌশল নিয়েছে তারা।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে হেলমেট ব্যবসায়ীদের নিয়ে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোনো মোটরসাইকেল চালক হেলমেট ছাড়া বেরুলে তাকে হেলমেট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। আর না কিনলে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছে। ঢাকা মহানগরীর চারটি জোনের উপ-পুলিশ কমিশনাররা বলছেন, সব মহলেই তাদের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। এছাড়া, মোটরসাইকেল চালকেরাও উৎসাহী হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর চার বিভাগের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ডিএমপিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মোরসাইকেল চালকদের হেলমেট না পরার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে ঢাকার প্রত্যেকটি জোনে একযোগে চেকিং পয়েন্টগুলোতে হেলমেট ব্যবসায়ীদের নিয়ে ‘হেলমেট বিহীন থাকলে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট কিনতে হবে নতুবা মামলা হবে’- এ পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে ২০ আগস্ট থেকে এ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ঢাকা বিভাগের প্রতিটি ট্রাফিক জোনে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
শনিবার সরেজমিন গিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে দেখা গেছে, কয়েকজন সার্জেন্ট হেলমেট না পরা মোটরসাইকেল চালকদের হয় হেলমেট কিনতে বাধ্য করছেন না হলে মামলা দায়ের করছেন।
ট্রাফিক পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের আরো চারটি স্থানে একই দৃশ্য দেখা গেছে।
চেক পয়েন্টগুলোতে দেখা গেছে, হেলমেট ব্যবসায়ীদের একজন প্রতিনিধি ২০/২৫টি হেলমেট নিয়ে বসে আছেন। হেলমেটবিহীন চালকেরা চাইলে তৎক্ষণাত কিনতে পারছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের দক্ষিণের উপ-কমিশনার আলমগীর কবির বাংলানিউজকে বলেন, “এ উদ্যোগে আমরা খুব সাড়া পাচ্ছি। যারা এতদিনেও হেলমেট কিনেননি তারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার গাড়ি থামিয়ে বুঝিয়ে বললে অনেকে ইচ্ছে করেই কিনে নিচ্ছেন।”
তিনি জানান, শুধুমাত্র শাহবাগ মোড়েই প্রায় ৫০ জন মোটরসাইকেল চালক হেলমেট কিনেছেন।
ট্রাফিক বিভাগের উত্তরের ডিসি মাসুদুর রহমান ভুঁইয়া বাংলানিউজকে এ ব্যাপারে বলেন, “উত্তর ডিভিশনের আব্দুল্লাপুর, বনানী, মহাখালী ও প্রগতি সরণীতে আমাদের এ কার্যক্রম চলছে।”
গত শুক্রবার ও শনিবার দু’দিনে মোট কতোটি হেলমেট বিক্রি হয়েছে সে তথ্য দিতে না পারলেও প্রতিদিন হেলমেট না কেনার কারণে দেড়শ’টি করে মামলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই কথা বলেছেন ট্রাফিকের পূর্ব ও পশ্চিমের দুই উপ-কমিশনার। এ উদ্যোগে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন