
সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের শুরুতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ব্যাপক ভাংচুর করেছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, হুমায়ুন রশিদ স্কয়ার ও চন্ডিপুল এলাকাতেও জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।
এ সময় রাবার বুলেটের আঘাতে ছয় শিবিরকর্মী আহত হন। চারজনকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে শিবিরকর্মীদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও আটক করা হয়েছে বলে জানান দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি নাসির উদ্দিন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমায় ৩০-৪০ জন পিকেটার লাঠিসোটা নিয়ে হঠাৎ সড়কে অন্তত ১২টি গাড়ি ভাংচুর করে।
এ সময় পুলিশ এগিয়ে এলে হরতালকারীরা পুলিশকে ধাওয়া করে। পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।
পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে হরতালকারীরা ওই এলাকা ত্যাগ করে।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সেখানে ৩/৪ টি গাড়ি ভাংচুর করে তারা পালিয়ে যায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল্লাহ আল আজাদ বলেন, “দক্ষিণ সুরমায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া নগরীর পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। সব জায়গায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া নগরীতে র্যাবের টহলও জোরদার করা হয়েছে।
সকাল থেকে নগরীতে রিকশা চলতে দেখা গেলেও ভারি যানবাহন চোখে পড়েনি।
সিলেট থেকে দূর পাল্লার কোনো বাস ছেড়ে না গেলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সিলেট রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে কালনী এক্সপ্রেস ও ৮টা ২০ মিনিটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে এবং সকাল সোয়া ১০টায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন