১৯৯৬ সালে বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগও ‘অনেক হরতাল’ দিয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের কর্মসূচি সম্পর্কে কথা বলেছেন। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ডিসেম্বর মাস জনগণের অধিকার আদায়ের মাস। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছি।”
“প্রধানমন্ত্রী ভুলে গেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তারা কতবার হরতাল ডেকেছিলেন। কত জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়েছিলেন”, যোগ করেন তিনি।
নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিরোধী দল আগামী ৯ ডিসেম্বর সারাদেশে রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি দেয়ায় শনিবার মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় তাদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি-জামায়াত জোট কর্মসূচি দিয়েছে। তাদের বলব, জনগণের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। জামায়াত-শিবির ছাড়ুন। তাহলে যদি বাংলার মানুষের মনে একটু জায়গা হতে পারে।”
এর জবাবে সোমবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজনীতি করি না। তার রাজনীতিও করি না। আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতি করি।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, “সরকার বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। আবেদন জানানোর পরও জামায়াতে ইসলামীকে সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বরং জামায়াত সমাবেশের জন্য কোনো আবেদনই করেনি বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন।”
“আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এভাবে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেয়া সংবিধান পরিপন্থী।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ‘অশালীন’ ভাষায় কথা বলে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছেন।
মিরপুরের পল্লবীতে বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনের জন্য তৈরি অনুষ্ঠান মঞ্চ পুলিশ ভেঙে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।
ব্রিফিংয়ের আগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির মুখপাত্র। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে জোটের কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
এর আগে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ফখরুল। যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, খন্দকার গোলাম আকবর, হারুনুর রশীদ এই বৈঠকে অংশ নেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন