মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়তে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিজয়ের মাসের প্রথম দিন শনিবার মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
এক দিনের সফরে মৌলভীবাজারে গিয়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন এবং ভিত্তিস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। জামায়াত-শিবির ছাড়ুন। তাহলে যদি বাংলার মানুষের মনে একটু জায়গা হতে পারে।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামী, যে দলটির ছয়জন নেতা একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “যতই চেষ্টা করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পারবেন না।”
জনসভাস্থল মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমবেত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান?”
জনতার সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ ধ্বনির পর শেখ হাসিনা আবার বলেন, “আপনারা হাত তুলে বলেন, আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান কি না?”
তখন সমবেত সবাই হাত তুলে বলেন, ‘হ্যাঁ’।
ডিসেম্বর মাসে আগামী ৮ ডিসেম্বর সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেয়ায় বিরোধী দলের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
“তারা সেই মাসে কর্মসূচি দিয়েছে, যে মাসে পরাজিত শক্তিকে (পাকিস্তানি বাহিনী) আমরা আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলাম।”
“বিরোধীদলীয় নেতা বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় কর্মসূচি দিয়েছেন।”
নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগ বলে আসছে, এই কর্মসূচি কার্যত যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য।
জনসভায় সিলেটের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা তুলে ধরে চারদলীয় জোট সরকার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা না করায় তাদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের জনগণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আছে।”
আগামী নির্বাচনে নৌকার জন্য ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় গেলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।
জনসভার আগে মৌলভীবাজার চিফ জুড়িশিয়াল ভবন, জাতীয় মহিলা সংস্থা ভবন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের ভিত্তিস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে নবনির্মিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করেন।
এছাড়া শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার হাসপাতাল এবং উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ কলেজের ও শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিস্থাপনও করেন প্রধানমন্ত্রী।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন