আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থ ফেরত আনার প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর আবার আক্রমণ করেছেন বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি শনিবার বলেছেন, “এই সংস্থাটি আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যখন সারাদেশে সরকারের দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে, তখন দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের (সরকার) দুর্নীতির কোনো খোঁজ পাচ্ছে না।
দুর্নীতির কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো মন্ত্রীদের দুদক ভালো মানুষের সনদপত্র দেয়।”
“অন্যদিকে তারা (দুদক) বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমনভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।”
গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, কোকোর পাচার করা ১৩ কোটি টাকা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত আনা হয়েছে। এই অর্থ পাচারের জন্য আদালতের রায়ে তার ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়।
খালেদা জিয়ার ছেলের পাচার করা অর্থ আনার ঘটনাটি ‘ভুয়া’ দাবি করে ফখরুল বলেন, “জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে সরকার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। একজন ব্যক্তিকে তার অনুপস্থিতিতে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সাজা দেয়া হচ্ছে।”
অর্থ পাচারের এই মামলায় বিচারের সময় আরাফাতকে হাজির হতে সমন এবং পরে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদেশে অবস্থানরত আরাফাতের কোনো সাড়া না মেলার পর তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শেষ হয়।
সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “হল-মার্ক, ডেসটিনি, পুঁজিবাজার থেকে সরকারের লোকজন লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। দেশের মানুষ আর বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই তাদের বলব, ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।”
সকালে নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টোরীর হলরুমে দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। অনুষ্ঠানে এইসব বিষয় তুলে ধরে জনগণের কাছে তা প্রচার করতে দলীয় নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা (উত্তর-দক্ষিণ), রাজশাহী মহানগর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পাবনা, বরিশাল (দক্ষিণ), নেত্রকোনা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ), নোয়াখালী, খুলনা, ময়মনসিংহ (উত্তর)সহ ২১ জেলার ৭৯ জন প্রতিনিধি এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। এতে মহিলা দলের ২৫ জন প্রতিনিধিও অংশ নিচ্ছেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় বিএনপির রাজনীতি, জিয়াউর রহমানের জীবনালেখ্য, যুদ্ধপরবর্তী সরকারের কার্যক্রম, ’৭৫ পূর্ব রাষ্ট্রের মূলনীতি ও সরকার, বাকশাল, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র উত্তরণ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বক্তব্য রাখবেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কবীর মুরাদ, কাজী আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির পর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রশিক্ষণার্থী নেতারা।
কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে এবার পঞ্চমবারের মতো ‘রাজনৈতিক কর্মশালা’ হচ্ছে। ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর জেলা ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের এই কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। এই পর্যন্ত ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন